রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)-এর আইনি মর্যাদা, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং আয়কর সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সরব হয়েছে কর্নাটক সরকার। এ নিয়ে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতকে সরাসরি চিঠি দিয়েছেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়ঙ্ক খড়গে। চিঠিতে সংস্থার রেজিস্ট্রেশন, তহবিলের উৎস, আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং কর সংক্রান্ত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের আবহে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মোহন ভাগবত।
আরও পড়ুন:
আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখা দুই পাতার ওই চিঠিতে প্রিয়ঙ্ক খড়গে উল্লেখ করেছেন, কর্নাটকে আরএসএসের কার্যকলাপ অত্যন্ত বিস্তৃত।
তাঁর দাবি, রাজ্যে সংস্থাটির প্রায় ৬০ হাজার শাখা রয়েছে এবং নিয়মিত নানা কর্মসূচি পরিচালিত হয়। এত বড় ও প্রভাবশালী একটি সংগঠনকে আইনি জবাবদিহির বাইরে রাখা যায় না বলেই মন্তব্য করেন তিনি।আরও পড়ুন:
খড়গে লেখেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন আইনের ঊর্ধ্বে হতে পারে না। নাগরিক, ট্রাস্ট, সমাজসেবামূলক সংস্থা কিংবা শ্রমিক সংগঠনগুলিকে যেমন নিবন্ধন ও আর্থিক তথ্য প্রকাশ করতে হয়, তেমনই আরএসএসের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
আরও পড়ুন:
চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, আরএসএসের অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভার ২০২৫-২৬ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী কর্নাটকে ১২৭টি দৈনিক শাখা, ১,৩৮৯টি সাপ্তাহিক সমাবেশ, ৬০টি মাসিক মণ্ডলী এবং ২,১৯৪টি সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ১৯.৬১ লক্ষ মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন।
এছাড়াও ৫৬২টি রুট মার্চে প্রায় ২.২১ লক্ষ ইউনিফর্ম পরিহিত সদস্য অংশ নেন। এত বিশাল কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী সংস্থার আর্থিক ও সাংগঠনিক কাঠামো সম্পর্কে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।আরও পড়ুন:
প্রিয়ঙ্ক খড়গে প্রশ্ন তোলেন, যখন মন্দির, ট্রাস্ট এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে আইন মেনে নিবন্ধন ও হিসাব প্রকাশ করতে হয়, তখন আরএসএস কেন সেই নিয়মের বাইরে থাকবে? শতবর্ষে পৌঁছে সংস্থার উচিত সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থেকে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য জনসমক্ষে তুলে ধরা বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন:
এদিকে, এই চিঠি প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, সংস্থার কোনও কিছুই গোপন নয়।
তাঁর কথায়, “আমরা খোলা মাঠে কাজ করি। মানুষকে ডেকে আমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে জানাই। আমাদের লুকোনোর কিছু নেই।”রেজিস্ট্রেশন প্রসঙ্গে ভাগবত বলেন, “হিন্দু ধর্ম নিজেই কোনও নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান নয়। এমন অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলির কোনও রেজিস্ট্রেশন নেই। যাদের সরকারি অনুদানের প্রয়োজন হয়, তারাই সাধারণত নিবন্ধন করায়।”
আরও পড়ুন:
আরএসএস প্রধানের দাবি, গত একশো বছর ধরে সংগঠনটি দেশে কাজ করে চলেছে, অথচ এতদিন কেউ তাদের নিবন্ধন নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সময়ে এই বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই সামনে আনা হচ্ছে।