পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ বকেয়া ভাড়া মেটাতে না পারায় হোস্টেল থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৩৩ জন পড়ুয়াকে বাইরে বের করে করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল। এরফলে তারা কার্যত আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। ঘটনাটি তেলেঙ্গানার মাহবুবনগর জেলার। অভিযোগ, প্রায় ১০ দিন ধরে তারা আশ্রয়হীন অবস্থায় কাটাচ্ছেন। পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে, কারণ ওই সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের বোয়াপল্লীর একটি নির্মীয়মাণ ভবনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের ভাড়া মেটাতে ব্যর্থতার কারণে তাদের ওই হোস্টেল ভবন খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। জেলার টিচার্স কলোনির ওয়াটার ট্যাংকের কাছে অবস্থিত ওই হোস্টেলটি। অভিযোগ অনুযায়ী,  ছাত্রছাত্রীদের যে নির্মীয়মাণ ভবনে চলে যেতে বলা হয়েছে সেটি এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। সেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ, শৌচালয়,  উপযুক্ত আবাসন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার চরম অভাব রয়েছে। শুধু তাই নয়, নিরাপত্তা, পরিবহন ব্যবস্থা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সুবিধা নিয়েও পড়ুয়ারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

তারা নানা ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন।

অভিযোগ উঠেছে যে, ২০২৫ সালের মার্চ মাস থেকে খাবার খরচ ও খাদ্য তহবিল বকেয়া পড়ে আছে।  তবে  সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের তরফে সেই খরচ মেটানো হয়নি। ওই ছাত্রছাত্রীরা জেলা প্রশাসকের দফতরে গিয়ে অবিলম্বে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে তাদের অভিযোগ পেশ করেন। তবে তাদের দাবি অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট জেলা সংখ্যালঘু কল্যাণ কর্মকর্তা এই বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

এদিকে,  বাম ছাত্র সংগঠন স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (এসএফআই) এই গুরুতর বিষয়টি জেলা প্রশাসনের কাছে জোরালোভাবে তুলে ধরেছে। জেলা সভাপতি আজিজুর রহমানের নেতৃত্বে এসএফআই-এর একটি প্রতিনিধিদল অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ৩৩ জন পড়ুয়ার সমস্যার কথা তুলে ধরে এবং জেলা সংখ্যালঘু কল্যাণ আধিকারিকের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেছেন। প্রতিনিধিদল জানিয়েছে , পড়ুয়ারা প্রায় দুই মাস ধরে উপযুক্ত আশ্রয় থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এসএফআই দাবি করেছে যে, সরকার যেন অবিলম্বে এবিষয়ে ব্যবস্থা নেয়। সংস্থাটি বকেয়া খাদ্য খরচ এবং খাদ্য তহবিল অবিলম্বে পরিশোধের দাবি জানিয়েছে, কারণ তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ মাস থেকে এই অর্থ প্রদান করা হয়নি। জেলে সংখ্যালঘু কল্যাণ আধিকারিক এসএফআই প্রতিনিধিদলকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, জেলা শাসকের সঙ্গে আলোচনার পর শহরের মধ্যেই একটি উপযুক্ত সরকারি ভবন বরাদ্দের চেষ্টা করা হবে। তিনি এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য কিছুটা সময় চেয়েছেন।