গলায় তালাবদ্ধ শিকল, সারা শরীরে নির্যাতনের ক্ষতচিহ্ন। সেই অবস্থাতেই প্রায় ৬ কিলোমিটার পথ হেঁটে থানায় পৌঁছে স্বামীর হাত থেকে রক্ষা চাইলেন এক মহিলা। তার শারীরিক অবস্থা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান পুলিশকর্মীরা। অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ করে অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের রাজগড় জেলার খিলচিপুর থানার অন্তর্গত ছিপিপুরা গ্রামে।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতাকে প্রায় ২৪ ঘণ্টা ঘরের ভিতরে একটি খুঁটির সঙ্গে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল।
অভিযোগ, শুধু মারধরই নয়, গরম লোহার রড দিয়ে তার কোমর, নিতম্ব ও উরুতে একাধিকবার ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। লাঠি দিয়েও বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্বামী সর্দার সিং তানওয়ারের বিরুদ্ধে।আরও পড়ুন:
মহিলার দাবি, গত ১০ জুন রাতে মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরে তার স্বামী অশান্তি শুরু করেন। খাবার নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে প্রথমে গালিগালাজ এবং পরে মারধর শুরু হয়। সেদিন রাতেই তিনি থানায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়লেও, খিলচিপুরের কাছে একটি হনুমান মন্দিরের সামনে থেকে তাকে ধরে ফেলে অভিযুক্ত। অভিযোগ, সেখানেও মারধর করে তাকে জোর করে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
বাড়িতে ফেরার পর মহিলার গলায় লোহার শিকল পরিয়ে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে তালাবন্ধ করে দেওয়া হয়। অভিযোগ, স্বামী তাকে হুমকি দিয়ে বলে, ‘‘এখন দেখব, কীভাবে থানায় গিয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করিস।’’
আরও পড়ুন:
নির্যাতিতার অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়ে। গরম লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। যন্ত্রণায় চিৎকার করলেও কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি। এমনকি পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকেও তাকে পুলিশে অভিযোগ না করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
অবশেষে বৃহস্পতিবার স্বামী বাড়ির বাইরে গেলে সুযোগ বুঝে একটি পাথরের সাহায্যে শিকলের তালা ভেঙে পালিয়ে যান ওই মহিলা। গলায় তখনও ঝুলছিল তালাবদ্ধ শিকল। সেই অবস্থাতেই দীর্ঘ পথ হেঁটে থানায় পৌঁছে পুরো ঘটনার কথা জানান তিনি।
পুলিশ তার অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। ডাক্তারি পরীক্ষায় শারীরিক নির্যাতনের স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে অভিযুক্ত সর্দার সিং তানওয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন:
খিলচিপুর থানার পুলিশ আধিকারিক কমল সিং গেহলট জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক অশান্তি থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল। তবে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।