পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ স্বামীর ঘর ছেড়ে মুসলিম প্রেমিকের সঙ্গে থাকতে চেয়েছিলেন এক তরুণী। কিন্তু, সেই তরুণীকেই খুন করার অভিযোগ উঠল তাঁর নিজের ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পরেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তরুণীর ভাই। ঘটনাটি উত্তর প্রদেশের ফতেহপুর জেলায় ঘটেছে। 

জানা গিয়েছে, বছর ১৯-এর ওই তরুণীর নাম মঞ্জু যাদব। চলতি বছরের মে মাসের শুরুতে তাঁর বিয়ে হয় পাশের এলাকার এক যুবকের সঙ্গে। তবে বিয়ের আগেই অন্য এক যুবকের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশের দাবি, কয়েক দিন আগে তরুণীর বড় ভাই সন্দীপ যাদব তাঁকে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিয়ে আসেন। দু’দিন সেখানে থাকার পর বাড়ি ফেরার পথে ভাই-বোনের মধ্যে ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে তর্কাতর্কি শুরু হয়। অভিযোগ, গ্রামের কাছে নির্জন এলাকায় পৌঁছে সন্দীপ তাঁর বোনকে আক্রমণ করেন এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। তদন্তকারীদের মতে, হত্যার পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে তরুণীর দেহ একটি গভীর জলভর্তি কুয়োর মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত সারারাত এলাকা ছেড়ে ঘুরে বেড়ায়। পরদিন সকালে সে নিজেই পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করে অপরাধের কথা স্বীকার করে বলে জানা গেছে।

জেলা পুলিশের আধিকারিক অভিমন্যু মাংলিক জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে তরুণীর অন্য সম্প্রদায়ের এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল।

পরিবারের আশঙ্কা ছিল, তিনি স্বামীর সংসার ছেড়ে সেই যুবকের কাছে চলে যেতে পারেন। অভিযুক্তও জিজ্ঞাসাবাদের সময় একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। পুলিশের দাবি, তরুণী স্বামীর বাড়িতে ফিরে যেতে রাজি ছিলেন না এবং নিজের পছন্দের ব্যক্তির সঙ্গেই থাকতে চেয়েছিলেন। এই বিষয়টি নিয়ে ভাইয়ের সঙ্গে তাঁর বিরোধ চরমে পৌঁছায় বলে তদন্তকারীদের ধারণা।

আত্মসমর্পণের পর অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরে কুয়ো থেকে তরুণীর দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের দল।

নিহতের বাবা শিব সিং যাদবের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হত্যা এবং অপরাধের প্রমাণ নষ্ট করার ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আরও তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তরুণীর মরদেহ উদ্ধারের পর তাঁর মা, দুই বোন এবং ছোট ভাই ভেঙে পড়েন। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করা যুবকের বাড়িতেও তল্লাশি চালায়। তবে তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি। তাঁর পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।