জেন জি আন্দোলনে গ্রেফতার হওয়া পড়ুয়াদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, ১৮ বছরের কম বয়সি আটক পড়ুয়াদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। পাশাপাশি, যেসব আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই, তাঁদেরও মুক্তি দিতে হবে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ‘দমনমূলক’ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। তবে যাঁদের বিরুদ্ধে আগের অপরাধের রেকর্ড রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ বিষয়ে কেন্দ্রের পাশাপাশি অসম, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও কেরল সরকারকে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
এরই মধ্যে বিহারের পর অসম সরকারও সিজেপি-সমর্থিত ছাত্র আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব মামলা প্রত্যাহারের ঘোষণা করেছে।
সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, “যুব সমাজের স্বার্থে আদালত যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তাকে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু আমাদের মূল দাবি ছিল—সব আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহার করতে হবে এবং আটক প্রত্যেককে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। সরকারের সঙ্গে আলোচনায় আমাদের সেই আশ্বাসই দেওয়া হয়েছিল। তাই আদালতের এই শর্ত আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।”
আরও পড়ুন:
তিনি আরও জানান, সরকার যদি দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে, তাহলে বুধবার থেকেই ফের আন্দোলনে নামবে সিজেপি। সংগঠনের অন্যতম মুখ অভিজিৎ দীপকেও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “পড়ুয়াদের খুঁজে খুঁজে হেনস্তা করা হলে তার ফল ভালো হবে না।”
সোমবারের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত একটি মৌলিক অধিকার। কেবলমাত্র আন্দোলন হচ্ছে বলেই পুলিশ লাঠিচার্জ করতে পারে না।
মঙ্গলবার আদালত আরও জানায়, আন্দোলন ঘিরে পুলিশের ভূমিকা এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ—উভয় দিকেই স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।
আরও পড়ুন:
শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আন্দোলন সংক্রান্ত সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ, ড্রোনের ভিডিও, পুলিশকর্মীদের বডি-ক্যামেরার রেকর্ডিং, ওয়্যারলেস যোগাযোগ এবং পিসিআর লগ সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য বা ডিজিটাল তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ না করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ, ছররা গুলি ব্যবহার, এমনকি বিহারে এক পুলিশকর্মীর একে-৪৭ হাতে দেখা যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীকে ইতিমধ্যেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এই প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, ভবিষ্যতে গণআন্দোলন মোকাবিলায় পুলিশের জন্য একটি সুস্পষ্ট জাতীয় প্রোটোকল তৈরি করা প্রয়োজন। আদালতের মন্তব্য, “প্রতিবাদ গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকারও সমানভাবে সুরক্ষিত রাখতে হবে।”