পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বিতর্কের আবহে দেশজুড়ে চলা ছাত্রবিক্ষোভের মাঝেই কড়া পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। লোকসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হয়ে গেল ‘পাবলিক এগজামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’। মন্ত্রিসভার ছাড়পত্র মেলার পর গত সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ লোকসভায় এই সংশোধনী বিলটি পেশ করেন। এরপর মঙ্গল ও বুধবার তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
তবে ভোটাভুটির ঠিক আগেই বিরোধী সাংসদেরা ওয়াকআউট বা কক্ষত্যাগ করেন। ফলে বিরোধীদের অনুপস্থিতিতেই বিলটি নিম্নকক্ষে পাশ হয়ে যায়।আরও পড়ুন:
এবার সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বিলটি পাশ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই তা পাকাপাকিভাবে আইনে পরিণত হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতিশ্রুতি মেনেই মূলত ২০২৪ সালের পুরনো আইনে সংশোধন এনে এই নতুন বিলের খসড়া তৈরি করা হয়েছে।
নতুন এই সংশোধনী বিলে পরীক্ষা সংক্রান্ত যে কোনও ধরনের দুর্নীতি ও প্রশ্নফাঁসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষায় কারচুপির সঙ্গে জড়িত দোষী ব্যক্তির ন্যূনতম পাঁচ বছর থেকে সর্বোচ্চ দশ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।আরও পড়ুন:
পাশাপাশি সর্বোচ্চ পঞ্চাশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার সংস্থানও রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, কোনও সংঘবদ্ধ চক্র বা অর্গানাইজড ক্রাইমের মাধ্যমে এই দুর্নীতি সংঘটিত হলে ন্যূনতম সাত বছরের জেলের পাশাপাশি দোষীদের দশ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
আরও পড়ুন:
বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলিকে বিশেষ আইনি ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে এই বিলে। সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির প্রশাসন চাইলে যে কোনও দায়রা আদালতকে বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে রূপান্তরিত করতে পারবে। এই বিশেষ আদালতগুলিতে দৈনন্দিন ভিত্তিতে বা রোজ শুনানি চলবে এবং চার্জশিট জমা পড়ার তিন মাসের মধ্যেই গোটা বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করতে হবে বলে বিলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এ ছাড়া, তদন্তের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠনের ক্ষমতা পাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাকে সর্বাধিক দু'মাসের মধ্যে নিজেদের তদন্তপ্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
মামলাগুলি সঠিকভাবে পরিচালনার স্বার্থে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে এক বা একাধিক বিশেষ সরকারি আইনজীবী নিয়োগের অধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টের দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানানোর আইনি সুযোগও থাকছে অভিযুক্তদের কাছে। এক্ষেত্রে আবেদনের দিন থেকে তিন মাসের মধ্যে সেই মামলার নিষ্পত্তি করতে হবে।