পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নীট-ইউজি’-কে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো খবর, প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব এবং বিভ্রান্তি ছড়ানো রুখতে এবার নজিরবিহীনভাবে কড়া পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক। আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হতে চলা নীট পুনররীক্ষার আগে মেটা, গুগল এবং টেলিগ্রাম-এর মতো প্রধান সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে এই ধরণের ভুয়ো নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে তা ব্লক করার নির্দেশ দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।

আগামী ২১ জুনের পুনররীক্ষার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে বুধবার পরপর দ্বিতীয় দিনের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এই বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রকের পদস্থ আধিকারিক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি এবং প্রধান প্রধান সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের আধিকারিকেরা।


বৈঠকে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা আধিকারিকেরা জানান, বিশেষ করে টেলিগ্রাম চ্যানেল এবং নামহীন অনলাইন গ্রুপগুলির মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা সংক্রান্ত ভুয়ো খবর ও গুজব মারাত্মকভাবে ছড়ানো হচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান নির্দেশ দেন, পরীক্ষার আগে যারা ভুয়ো তথ্য, প্রোপাগান্ডা এবং পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে যেন ‘ফোকাসড ক্র্যাকডাউন’ অভিযান চালানো হয়। এই ধরণের চ্যানেলগুলিকে চিহ্নিত করে অবিলম্বে ব্লক এবং টেকডাউন করার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

তদন্তে জানা গিয়েছে, গত ৩ মে অনুষ্ঠিত হওয়া নীট-ইউজি পরীক্ষার আগেও কিছু অসাধু চক্র সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ‘ক্লিকবাইট’ ক্যাম্পেনের মাধ্যমে ভুয়ো প্রশ্নপত্র বিক্রি করেছিল এবং পরীক্ষার্থীদের প্রতারিত করেছিল।

আধিকারিকেরা লক্ষ্য করেছেন, বড় বড় পরীক্ষাগুলির ঠিক মুখে এই ধরণের চ্যানেলগুলি হঠাৎ করে অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা ‘প্রশ্ন ফাঁস’ হয়েছে বলে ভুয়ো দাবি করে ক্লিকবাইট কনটেন্ট ছড়ায়, যার ফলে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়। অনেক সময় এই লিংকগুলিতে ক্লিক করলে ব্যবহারকারীরা স্বয়ংক্রিয় বোট এবং ভুয়ো গ্রুপে স্থানান্তরিত হয়ে যান, যা ওই বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়ে দেয়। বৈঠকে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও সংগঠিতভাবে এই চক্র চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিক্ষামন্ত্রী সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে শিক্ষা মন্ত্রক, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির সাথে সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।