পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ বিধানসভা নির্বাচনের আগে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে বলে বার্তা দিয়েছিল বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরেই অনুপ্রবেশকারী ঠেকাতে সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের কথা ঘোষণা করেছেন। এবার অনুপ্রবেশকারী ঠেকাতে আরও বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতার বাইরে থাকা বিদেশি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে। এরপর তাদের বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আগের সরকার কেন্দ্রের নির্দেশ কার্যকর করেনি।
নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে সেই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সকালে উত্তরবঙ্গ সফর সেরে বিকেলে নবান্নে ফেরেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আধিকারিকদের উপস্থিতিতেই তিনি সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ রোধে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, সীমান্ত এলাকাকে আরও সুরক্ষিত করতে রাজ্য সরকার ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী যৌথভাবে কাজ করবে। পাশাপাশি, সীমান্ত ঘেঁষা এলাকাগুলিতে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। কাদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে সেবিষয়টিও স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী এখন থেকে যাঁরা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ- এর সুবিধার মধ্যে পড়বেন না, তাঁদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গণ্য করা হবে। রাজ্য পুলিশ তাঁদের আটক করে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে তুলে দেবে। পরে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে তাঁদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় সুরক্ষা পাবেন। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যাঁরা এ রাজ্যে এসেছেন, তাঁদের পুলিশ কোনও হেনস্থা করতে পারবে না বা আটক করতে পারবে না বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। জানা গিয়েছে, গত বছর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি নির্দেশিকা জারি করেছিল।
সেখানে বলা হয়, ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষদের শরণার্থীর মর্যাদা দেওয়া হবে। বৈধ নথিপত্র না থাকলেও কিংবা ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে না। এই সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি হিসেবে অভিবাসন ও বিদেশি সংক্রান্ত আইনের বিশেষ ধারার উল্লেখ করেছে রাজ্য সরকার। সেই ধারায় কেন্দ্রীয় সরকারকে বিশেষ পরিস্থিতিতে নিয়মে পরিবর্তন আনার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কোন পরিস্থিতিতে কাদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হবে, সেই সিদ্ধান্তও কেন্দ্রই নিতে পারবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী সমস্ত থানাকে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং মুখ্যসচিবকে এবিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।