পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: বিচারব্যবস্থা ও আদালতের কার্যপদ্ধতি নিয়ে আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করার দায়ে এক ইউটিউবার তথা আইনজীবীকে ছয় মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট। দুটি অপরাধমূলক আদালত অবমাননা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় বুধবার গুলশন পাহুজা নামের ওই ব্যক্তিকে এই সাজা শুনিয়েছে আদালত। সাজা ঘোষণার সময়ও এজলাসের ভেতরে ওই ব্যক্তি বিচারব্যবস্থাকে ‘স্বৈরাচারী’ বলে উল্লেখ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিচারপতিরা।

বুধবার শুনানির সময় আদালত কক্ষে গুলশন পাহুজা বিচারকদের সামনেই নিজের বিতর্কিত মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন।

তিনি বলেন, “আদালতগুলির মনমর্জি দিন দিন বেড়েই চলেছে। আমি এখানে কোনও ন্যায়ের আশা নিয়ে আসিনি। এই মনমর্জির আরেক নাম হলো একনায়কতন্ত্র বা স্বৈরাচার।” বিচারব্যবস্থার প্রতি তাঁর এই অনড় ও আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখেই ক্ষুব্ধ হন বিচারপতিরা।
আদালত স্পষ্ট জানায়, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরেও ওই ব্যক্তির মধ্যে কোনও অনুশোচনা বা নিজের ভুল সংশোধনের মানসিকতা দেখা যায়নি।

গুলশন পাহুজা ‘ফাইট ফর জুডিশিয়াল রিফর্মস’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেল চালান তিনি। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে তিনি একটি ভিডিও এবং ব্যানার পোস্ট করে দিল্লির তিনজন জেলা বিচারক— চারু আসিয়াল, অজয় নারওয়াল এবং অজয় সিং পরিহারের নাম উল্লেখ করে ব্যক্তিগত আক্রমণ শানান। পাহুজা দাবি করেছিলেন, কোনও বিচারপ্রার্থীর মামলা যদি এই তিন বিচারকের এজলাসে ওঠে, তবে তাঁদের কাছ থেকে ন্যায়ের আশা না করাই শ্রেয়।

সুপ্রিম কোর্টকে নিয়েও অত্যন্ত আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করেন। এই সমস্ত ঘটনার প্রেক্ষিতেই তাঁর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা রুজু করা হয়েছিল।

দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি নবীন চাওলা এবং বিচারপতি রভিন্দর দুদেজার ডিভিশন বেঞ্চ রায়ে উল্লেখ করেছে, “শুনানি চলাকালীনও অবমাননাকারী আবারও কেলেঙ্কারিজনক মন্তব্য করেছেন এবং জানিয়েছেন যে ভারতীয় বিচারব্যবস্থার ওপর তাঁর কোনও আস্থা নেই। তিনি বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত নন।” আদালত বলে, এই পরিস্থিতিতে উপযুক্ত শাস্তি না দিলে তা এই ধরণের অপরাধকে আরও উৎসাহিত করবে এবং ভবিষ্যতে আদালতের গরিমা ক্ষুণ্ণ করার সাহস জোগাবে। সেই কারণেই আদালত অবমাননা আইনের অধীনে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং প্রতিটি মামলায় ২,০০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।