পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো বেওয়ারিশ বা পথকুকুরদের কামড় এবং আক্রমণের হাত থেকে নাগরিকদের সুরক্ষার অধিকারকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিল দেশের শীর্ষ আদালত। জনবহুল রাস্তা ও জনসমক্ষ থেকে পথকুকুর সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে নিজেদের দেওয়া ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসের পূর্ববর্তী নির্দেশ পুনর্বিবেচনা বা প্রত্যাহারের সমস্ত আবেদন মঙ্গলবার খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, কুকুরের আক্রমণের আতঙ্কের মধ্যে নাগরিকেরা বাস করতে পারেন না এবং এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র বা প্রশাসন ‘নিষ্ক্রিয় দর্শক’ হয়ে থাকতে পারে না।

সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া আগের নির্দেশে বলা হয়েছিল, পথকুকুরদের বন্ধ্যাকরণ বা লাইগেশনের পর তাদের আর আগের জায়গায় ফেরত পাঠানো যাবে না।

পশুপ্রেমী ও পশু অধিকার রক্ষা আন্দোলনের কর্মীরা এই নির্দেশের বিরোধিতা করে আদালতে পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছিলেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, বন্ধ্যাকরণের পর কুকুরদের অন্য জায়গায় পুনর্বাসন দিলে বা স্থানান্তরিত করলে তারা বিভ্রান্ত ও হিংস্র হয়ে উঠতে পারে, যার ফলে কামড়ানোর ঘটনা আরও বাড়বে। কিন্তু এদিন বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ সেই যুক্তি খারিজ করে দেয়। আদালত বলে, “আদালত মাটির নির্মম বাস্তবতাকে উপেক্ষা করতে পারে না... যেখানে শিশু, প্রবীণ নাগরিক এবং আন্তর্জাতিক পর্যটকেরা প্রতিনিয়ত কুকুরের কামড়ের শিকার হচ্ছেন।
আমাদের সংবিধান এমন কোনও সমাজের কথা কল্পনা করে না, যেখানে শিশু ও বৃদ্ধদের কেবল শারীরিক শক্তি বা পশুর দয়ার ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকতে হবে।”

জনসমক্ষে পথকুকুরদের অবাধ উপস্থিতি ও ক্রমবর্ধমান সংখ্যাকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে বর্ণনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যাবৃদ্ধির অনুপাতে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করতে না পারায় রাজ্য সরকারগুলির তীব্র সমালোচনা করেছে আদালত। সুপ্রিম নির্দেশে বলা হয়েছে, “এতদিন ধরে রাজ্যগুলির প্রচেষ্টা ছিল অত্যন্ত বিক্ষিপ্ত এবং এতে কোনও প্রাতিষ্ঠানিক দূরদর্শিতা ছিল না। কোনও রকম পরিকল্পনা ছাড়াই বন্ধ্যাকরণ এবং টিকাকরণ কর্মসূচি চালানো হয়েছে, যা অ্যানিম্যাল বার্থ কন্ট্রোল (এবিসি) পরিকাঠামোর মূল উদ্দেশ্যকেই ব্যর্থ করে দিয়েছে। রাজ্যগুলি আগে থেকে দূরদর্শিতা দেখালে আজ পরিস্থিতি এই পর্যায়ে পৌঁছাত না।”