পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার স্ত্রীকে নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলায় এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতে খেরা জানান, তদন্তে সহযোগিতা করতে তিনি প্রস্তুত, তবে তাঁকে গ্রেফতার করে অপমান করার কোনো প্রয়োজন নেই। গৌহাটি হাইকোর্ট তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেওয়ার পর, সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিচারপতি জে. কে. মহেশ্বরী এবং বিচারপতি অতুল চন্দুরকরের বেঞ্চে আবেদন করেন কংগ্রেস নেতা। দীর্ঘ শুনানির পর সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার রায় আপাতত স্থগিত রেখেছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি গুয়াহাটিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে পবন খেরা অভিযোগ করেছিলেন, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার স্ত্রী রিঙ্কি ভূঁইয়া শর্মার কাছে ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং মিশর—এই তিন দেশের পাসপোর্ট রয়েছে। এছাড়াও দুবাইয়ে তাঁর বেনামি বিলাসবহুল সম্পত্তি এবং আমেরিকার ওয়াইওমিং অঙ্গরাজ্যে একটি কোম্পানি রয়েছে বলেও দাবি করেন খেরা। এই মন্তব্যের পরই তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির এফআইআর দায়ের করা হয়।

বৃহস্পতিবার কংগ্রেস নেতার পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী ড. অভিষেক মনু সিংভি।

তিনি বলেন, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা যেভাবে খেরার বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছেন, তা দেখে ড. বি.আর. আম্বেদকরও হয়তো কবরে শুয়ে ছটফট করবেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে "কনস্টিটিউশনাল কাউবয়" এবং "কনস্টিটিউশনাল র‍্যাম্বো" বলে কটাক্ষ করেন। সিংভি যুক্তি দেন, পবন খেরা দেশ ছেড়ে পালাবেন না এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন। তাই তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। পবন খেরা নিজে আদালতকে জানান, যদি এই পর্যায়ে তাঁকে সুরক্ষা না দেওয়া হয়, তবে আগাম জামিন আইনের মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে। আদালত উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পর রায় সংরক্ষিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।