পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় জেলবন্দি থাকার পর অবশেষে জামিন পেলেন জম্মু-কাশ্মীরের বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী খুররম পারভেজ। ইডি ও জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র দায়ের করা একটি সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে অর্থ জোগান মামলায় বুধবার দিল্লি হাইকোর্ট তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছে। ইউএপিএ-র ধারায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি নবীন চাওলা এবং বিচারপতি রবীন্দ্র দুদেজার সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ খুররম পারভেজের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ট্রায়াল কোর্ট (নিম্ন আদালত) তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল।

নিম্ন আদালতের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে আপিল করেছিলেন পারভেজ। আদালত রায় ঘোষণার সময় বলেন, "আমরা বেশ কিছু শর্ত সাপেক্ষে খুররম পারভেজের জামিন মঞ্জুর করেছি।"

২০২১ সালের ২২ নভেম্বর জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগর থেকে খুররম পারভেজকে গ্রেফতার করেছিল এনআইএ। একটি কথিত সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্র মামলার সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এরপর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়।

বিগত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি দিল্লির তিহার জেলেই বন্দি ছিলেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র অভিযোগ ছিল, খুররম পারভেজ নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন 'লস্কর-ই-তৈবা'-র একটি গোপন নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত ছিলেন। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই নেটওয়ার্কটি কাশ্মীরে ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কার্স নিয়োগ করা, ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী এবং সামরিক ঘাঁটিগুলির ওপর নজরদারি চালিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য অর্থ জোগাড়ের কাজ করছিল।

অন্যদিকে, খুররম পারভেজের এই দীর্ঘ কারাবাস নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলি বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। তাঁদের দাবি ছিল, কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সওয়াল করার কারণেই তাঁকে নিশানা করা হয়েছে। অবশেষে দিল্লি হাইকোর্টের এই জামিনের নির্দেশে পারভেজের পরিবার ও অনুগামীদের মধ্যে স্বস্তির হাওয়া ফিরেছে।