পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ আগামী ২৮ মে বৃহস্পতিবার পবিত্র কুরবানির ঈদ বা ঈদ উল আযহা। এই উপলক্ষ্যে এই দিনটিতে ছুটি ঘোষণা করেছে কেন্দ্র সরকার। কিন্তু, এনিয়ে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঈদ উল আযহার দিন পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এনিয়ে মুসলিম পড়ুয়াদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার এর প্রতিবাদে ছাত্রছাত্রীরা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভ দেখান। পাশাপাশি এনিয়ে এই সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন এক মুসলিম ছাত্র। 

মঙ্গলবার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসা এবং আইনের পড়ুয়ারা বিক্ষোভ দেখান। তাঁরা অবিলম্বে পরীক্ষা স্থগিত,  ক্ষমা প্রার্থনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ধর্মনিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মূল্যবোধ রয়েছে সেগুলি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, ঈদ উল আজহার দিন ছুটি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া সত্ত্বেও, ওই দিন পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাদের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পরীক্ষার দিন বদল করা হবে না। এনিয়ে পড়ুয়ারা বার বার বিরোধীতা করা সত্ত্বেও সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি কর্তৃপক্ষ। তার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পড়ুয়ারা। আইসার অভিযোগ, মুসলিম পড়ুয়াদের ধর্ম পালনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত তাদের  শিক্ষাগত ভবিষ্যৎ ও ধর্ম পালনের মৌলিক অধিকারের মধ্যে যে কোনও একটিকে বেছে নিতে বাধ্য করেছে। তাদের দাবি, এই ঘটনা বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরেছে। শুধু তাই নয়, তাদের আরও অভিযোগ, এই সিদ্ধান্ত মুসলিম পড়ুয়াদের প্রাতিষ্ঠানিক বর্জন এবং নির্লজ্জ ইসলামোফোবিয়ার একটি পরিকল্পিত প্রয়াস। এই সিদ্ধান্ত বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক ভুল নয়, বরং এটি একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করার সুস্পষ্ট ধারাবাহিকতার অংশ।
অভিযোগ উঠেছে, এদিন বিক্ষোভের সময় পুলিশ পড়ুয়াদের ভীতি প্রদর্শন করার পাশাপাশি শারীরিকভাবে তাঁদের হেনস্থা ও ধাক্কাধাক্কি করেছে। 

এদিকে, হাইকোর্টে মামলাটি করেছেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এক ছাত্র। হাইকোর্টে তিনি আবেদনে জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত সংবিধানের ১৪, ২১, ২৫ ও ২৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘন করে। আবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্র সরকার ওই দিন ছুটি ঘোষণা করেছে। তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সুপ্রিম কোর্টসহ বেশ কয়েকটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই ঈদ উল আযহার ছুটি ঘোষণা করেছে। অথচ কেন্দ্রের ঘোষণার পরেও বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ​বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং বহু পড়ুয়া ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্ত মুসলিমদের ঈদ উদযাপনের অধিকারের লঙ্ঘন।

ছাত্র সংগঠন এসআইও-ও এই সিদ্ধান্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তীব্র নিন্দা করেছে।

সংগঠনের দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে,  "এই ধরনের সিদ্ধান্ত স্ববিরোধী পদক্ষেপ। এই সিদ্ধান্ত হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ধর্মীয় পালন, যাতায়াতের সুবিধা এবং উদ্বেগকে উপেক্ষা করে। আমরা কর্তৃপক্ষকে ঈদে নির্ধারিত পরীক্ষাগুলোর দিন অবিলম্বে পরিবর্তন করার আহ্বান জানাচ্ছি।" 

দিল্লি বিশ্ব বিয়ালয়ের আরও একটি ছাত্র সংগঠন ফ্র্যাটার্নিটি মুভমেন্ট'ও এর বিরোধীতা করেছে। সংগঠনের সভাপতি আহমেদ রাবিহ পিআর কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, এই নির্দিষ্ট দিনে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সক্রিয়ভাবে মুসলিম পড়ুয়াদের অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে। এই সিদ্ধান্ত মুসলিম পড়ুয়াদের শিক্ষাগত ভবিষ্যৎ ও ধর্ম পালনের মৌলিক অধিকারের মধ্যে যে কোনও একটিকে বেছে নিতে বাধ্য করেছে। আইসার দাবি,  ছাত্র কল্যাণ বিভাগের ডিন পড়ুয়াদের জানিয়েছেন, এবিষয়ে কর্তৃপক্ষের কিছুই করার নেই। এই বিষয়ে তিনি দিল্লি হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে বলেছেন। এবার দিল্লি হাইকোর্ট কি সিদ্ধান্ত নেয় সেই দিকেই তাকিয়ে পড়ুয়ারা।