পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: এক হিন্দু তরুণীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল। প্রায় ১৮ বছর ধরে সেই মামলা চলার পর অবশেষে বিরাট স্বস্তি পেলেন দিল্লির বাসিন্দা মুহাম্মদ কাসিম। অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ থেকে তাঁকে সম্পূর্ণ মুক্তি দিল দিল্লি হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সংশ্লিষ্ট তরুণী নিজের ইচ্ছাতেই তাঁর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন এবং পরে সামাজিক ও পারিবারিক চাপে নিজের বক্তব্য বদলেছিলেন।
আরও পড়ুন:
এর আগে নিম্ন আদালত কাসিমকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। সেই সাজা বাতিল করে উচ্চ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। মামলার বয়ান অনুযায়ী, ২০০৪ সালে দিল্লির একই এলাকার বাসিন্দা ওই তরুণী ও কাসিম একে অপরের ঘনিষ্ঠ হন। পরে তাঁরা একসঙ্গে বাড়ি ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে চলে আসেন।
সেখানেই আইন মেনে তাঁদের বিবাহ হয়। পরে বর্ধমান জেলার কুলটি এলাকায় তাঁদের বিয়ের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়। তদন্ত চলাকালীন তরুণী প্রথমে পুলিশ ও বিচারকের সামনে জানান, তিনি নিজের ইচ্ছায় কাসিমের সঙ্গে গিয়েছিলেন। তিনি স্বেচ্ছায় তাঁকে বিয়ে করেন এবং তাঁর সঙ্গেই থাকতে চেয়েছিলেন বলেও জানান। আদালত বলেছে, সেই সময়ের বক্তব্যে স্পষ্টভাবেই কাসিমের পক্ষে কথা উঠে এসেছিল। কিন্তু পরে বিচারপর্বে ওই তরুণী আগের বক্তব্য থেকে সরে এসে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ আনেন। এরপরই কাসিম দোষী সাব্যস্ত হন। তবে উচ্চ আদালতের মতে, পরবর্তী সময়ে দেওয়া সেই সাক্ষ্যে অসঙ্গতি ছিল এবং তা বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয়নি।আরও পড়ুন:
রায়ে আদালত বলেছে, নথিপত্র থেকে স্পষ্ট যে তরুণী নিজের সিদ্ধান্তেই কাসিমের সঙ্গে গিয়েছিলেন এবং বৈধভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। এই মামলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল তরুণীর বয়স। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, বিয়ের সময় তিনি প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন না। তবে চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি, বয়স নির্ধারণের পরীক্ষা এবং বিদ্যালয়ের কাগজপত্র খতিয়ে দেখে আদালত জানায়, ঘটনার সময় তাঁর বয়স প্রায় আঠারো বছর ছিল।
আরও পড়ুন:
আদালত আরও জানায়, বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় এবং পরবর্তী প্রায় দুই মাস একসঙ্গে থাকার সময় তরুণীর সাহায্য চাওয়ার বা আপত্তি জানানোর যথেষ্ট সুযোগ ছিল। কিন্তু তিনি তা করেননি। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, তাঁর নীরবতা থেকে বোঝা যায় তিনি নিজের ইচ্ছাতেই কাসিমের সঙ্গে ছিলেন। রায়ে সমাজের বৃহত্তর বাস্তবতাও উঠে এসেছে।
আদালত মন্তব্য করেছে, সমাজে এখনও ধর্ম, জাত ও সম্প্রদায়ের বিভাজন এত গভীর যে তরুণ-তরুণীদের নিজের পছন্দমতো জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ভিন্ন ধর্মের মানুষের সম্পর্ক এখনও বহু ক্ষেত্রে পরিবার ও সমাজের বিরোধিতার মুখে পড়ে।আরও পড়ুন:
রায় ঘোষণার পর কাসিম জানান, তিনি ও ওই তরুণী একে অপরকে ভালোবাসতেন। পরিবারের আপত্তির কারণেই তাঁরা বাড়ি ছেড়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে তাঁর বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হলে তিনি হতবাক হয়ে যান কাসিমের দাবি, গ্রেপ্তারের পর তাঁকে প্রায় দুই বছর কারাগারে থাকতে হয়েছে। তারপর থেকে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে আদালতে নিজের নির্দোষ প্রমাণের লড়াই চালিয়ে যেতে হয়েছে।
আরও পড়ুন:
তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য, এটি দুই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পারস্পরিক সম্মতিতে একসঙ্গে থাকার ঘটনা ছিল। শুরু থেকেই তরুণীর বয়ানে সেই ইঙ্গিত মিলেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতি বদলে যায় এবং সেই থেকেই মামলার জটিলতা তৈরি হয়। দীর্ঘ শুনানির পর অবশেষে উচ্চ আদালতের এই রায়ে কাসিম সমস্ত অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলেন।