পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ উত্তর প্রদেশের মিরাট জেলায় একটি ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দুই মুসলিম যুবককে লাভ জেহাদ এবং গণধর্ষণের মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে বিপুল অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে পুলিশ। আর এই ঘটনার পিছনে একটি কট্টরপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নেতার নাম সামনে এসেছে।
আরও পড়ুন:
শনিবার মিরাটের জাগৃতি বিহার এক্সটেনশন এলাকায় একটি গাড়ি ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। গাড়িটিতে দুই মুসলিম যুবক ও এক তরুণী ছিলেন। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের আটকিয়ে অভিযোগ তোলেন যে তরুণীকে সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকেই থানায় নিয়ে যায় এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে ঘটনাটি অন্য দিকে গেলেও কয়েক ঘণ্টা পর পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তরুণী পরে জানান যে গোটা পরিকল্পনার নেপথ্যে ছিলেন নকুল গুর্জার নামে এক ব্যক্তি। তাঁর বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দুই যুবককে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে।আরও পড়ুন:
বুলন্দশহরের সায়ানা এলাকার বাসিন্দা ওই তরুণী তদন্তকারীদের জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নকুলকে চিনতেন। তাঁর দাবি, জিশান ও শাহভেজ নামে দুই যুবকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনার বিনিময়ে তাঁকে অর্থ ও চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। পুলিশের দাবি, দুই যুবকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে তাঁদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা আদায়ের ছক কষা হয়েছিল। তদন্তে জানা গেছে, জিশান একটি সংস্থা পরিচালনা করেন, যার মাধ্যমে বিভিন্ন বাড়িতে কর্মী সরবরাহ করা হয়।
তদন্তকারীদের মতে, নকুলের নির্দেশেই তরুণীর যোগাযোগের তথ্য জিশানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। জানানো হয়েছিল যে তরুণী কাজের খোঁজ করছেন। সেই সূত্রেই নির্দিষ্ট স্থানে দেখা করার কথা হয়। ওই সময় গাড়িতে শাহভেজও উপস্থিত ছিলেন।আরও পড়ুন:
পুলিশের দাবি, গাড়িতে ওঠার আগেই তরুণী গাড়ির ছবি ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য নকুলের কাছে পাঠিয়েছিলেন। এরপর নকুল ও তাঁর সহযোগীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু করেন। এদিকে তদন্ত চলাকালীন নকুল গুর্জারের একটি পুরোনো দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সেখানে দেখা যায়, একটি গণধর্ষণ মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, সেই ঘটনাও বর্তমানে তদন্তের মধ্যে রয়েছে। তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।আরও পড়ুন:
মিরাট পুলিশ জানিয়েছে, নকুল গুর্জারের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, প্রথমে জিশান ও শাহভেজকে আটক করা হলেও জিজ্ঞাসাবাদের সময় উঠে আসা তথ্য তদন্তের গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে দেয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।