পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: দেশের রাজধানীর বুকে আবারও এক নারকীয় ঘটনা। পশ্চিম দিল্লির জনকপুরী এলাকার একটি বেসরকারি স্কুলের ভেতরে ৩ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিগ্রহ ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠল ৫৭ বছর বয়সী এক স্কুল কর্মীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অভিযুক্তের দ্রুত জামিন পাওয়া এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১ মে শিশুটির মা জনকপুরী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, ৩০ এপ্রিল স্কুলে থাকাকালীন তার মেয়ের ওপর যৌন নিগ্রহ চালানো হয়। ওই দিনটি ছিল শিশুটির স্কুলে ভর্তির মাত্র দ্বিতীয় দিন।

স্কুল থেকে ফেরার পর শিশুটি যন্ত্রণার কথা জানালে মা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখনই শিশুটি জানায়, স্কুলের এক ব্যক্তি তাকে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে নিগ্রহ করেছে।

মেডিক্যাল পরীক্ষার পর ১ মে সকালেই অভিযুক্ত কেয়ারটেকারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে পকসো আইনের মামলা রুজু করা হয়। অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হলে তাকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছিল। গত ৭ মে দ্বারকা আদালত অভিযুক্তকে জামিন দেয়।

প্রসিকিউশন এই জামিনের তীব্র বিরোধিতা করলেও আদালত তা মঞ্জুর করে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে শিশুটির পরিবার। নির্যাতিতার মায়ের অভিযোগ, ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তদন্তের নামে শিশু ও তার পরিবারকে থানায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়েছে। স্কুলের এক শিক্ষকও এই ঘটনায় জড়িত এবং পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পরিবারের দাবি, পশ্চিম দিল্লির ডিসিপি তাঁদের সহযোগিতা করার বদলে উল্টে হুমকি দিয়েছেন।

এই ইস্যুতে দিল্লির শাসক দল আম আদমি পার্টির নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি অভিযুক্তের জামিন পাওয়ার ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে বর্ণনা করেন এবং পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অসহযোগিতার অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করেন। তিনি বলেন, “ভাবুন তো, একটি শিশু স্কুলে ভর্তি হওয়ার প্রথম দিনেই যদি এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হয়, তবে অভিভাবকরা কোথায় ভরসা পাবেন?” এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পরেই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তকে শনাক্ত করার পরই গ্রেফতার করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ এবং বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। পুলিশ কোনোভাবে পরিবারকে হুমকি দেয়নি।