পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ  প্ল্যাটফর্মে চলন্ত ট্রেনে ওঠানামার সময় দুর্ঘটনা রুখতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রেলরক্ষী বাহিনী। এবার থেকে এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ আচরণকে সরাসরি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ধরা হবে। এতদিন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যাত্রীদের সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হতো। তবে নতুন নিয়মে ঘটনাস্থলেই জরিমানা করা হতে পারে।

রেল সূত্রের খবর,  রেল আইনের ১৫৬ নম্বর ধারায় চলন্ত ট্রেনে ওঠা বা নামা বিপজ্জনক এবং আইনত দণ্ডনীয়।

সেই নিয়মকে আরও কঠোরভাবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলরক্ষী বাহিনী। জানা গিয়েছে, ধরা পড়লে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে যাত্রীদের। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে কেরলের তিরুবনন্তপুরম বিভাগে লাগাতার বেড়ে চলা দুর্ঘটনার সংখ্যা। চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই বিভিন্ন স্টেশনে এমন ৩৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাতে প্রাণ হারিয়েছেন ১২ জন, গুরুতর জখম হয়েছেন ২৫ জন।
গত বছর একই বিভাগে ১১৩টি ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল ৩১ জনের।

রেলকর্তাদের বক্তব্য, বেশিরভাগ দুর্ঘটনাই ঘটে যাত্রীদের অসাবধানতার কারণে। অনেক সময় কামরার ভিতরে পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও দ্রুত নামার তাড়ায় বহু যাত্রী দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন। ট্রেন পুরোপুরি থামার আগেই নামার চেষ্টা করতে গিয়ে ঘটে বিপত্তি। এই ধরনের দুর্ঘটনাই সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী বলেই মনে করছে রেল।

বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তিরুবনন্তপুরম উচ্চ আদালতও। আদালতের নির্দেশ, দূরপাল্লা ও স্থানীয় সব ধরনের ট্রেনেই এমন ঘোষণা চালু করতে হবে যাতে আগেভাগে যাত্রীরা জানতে পারেন পরবর্তী স্টেশনে ট্রেন থামবে কি না।

শুধু দক্ষিণ ভারত নয়, গোটা দেশেই এই সমস্যা উদ্বেগজনক আকার নিয়েছে। একটি প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে, রাজধানী দিল্লিতে ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চলন্ত ট্রেনে ওঠানামা করতে গিয়ে ২১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৯৩ জন। শুধু ২০২৩ সালেই নতুন দিল্লি স্টেশনে এই ধরনের ঘটনায় ৯৮ জন প্রাণ হারান। পরের বছরও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি; মৃত্যু হয়েছে ১০৫ জনের, আহত হয়েছেন ৪৮ জন। রেলের দাবি, কঠোর জরিমানা ও সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে এই বিপজ্জনক প্রবণতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।