পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলের কাছে আটকে থাকা একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরীতে হান্টারভাইরাস সংক্রমণ ঘিরে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। জাহাজে থাকা মোট ১৪৯ জন যাত্রীর মধ্যে দুই ভারতীয়ও রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তাঁরা আক্রান্ত কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।
আরও পড়ুন:
সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে জাহাজে থাকা যাত্রী ও নাবিকদের জাতীয়তার তালিকা। তাতে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ যাত্রীই ব্রিটেন, আমেরিকা, জার্মানি ও স্পেনের নাগরিক। এছাড়াও ফিলিপিন্স, ইউক্রেন, নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ডের কয়েকজন নাবিকও রয়েছেন।
সেই তালিকাতেই দুই ভারতীয়র উপস্থিতির তথ্য মিলেছে। তাঁদের শারীরিক অবস্থা, জাহাজে দায়িত্ব এবং সংক্রমিতদের সংস্পর্শে এসেছেন কি না এসব বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ফলে তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।আরও পড়ুন:
জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। তখন আক্রান্তদের অবস্থা এবং অন্য যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। নেদারল্যান্ডসের পতাকাবাহী এই প্রমোদতরী গত ২০ মার্চ আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করে।
আটলান্টিক পেরিয়ে ইউরোপের দিকে এগোচ্ছিল সেটি। গন্তব্য ছিল স্পেনের উপকূলের কাছাকাছি একটি জনপ্রিয় দ্বীপাঞ্চল। জাহাজটিতে ছিলেন ১৭০ জন যাত্রী এবং ৭১ জন নাবিক।আরও পড়ুন:
যাত্রাপথেই আচমকা ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা সামনে আসে। প্রথমে আক্রান্ত হন প্রায় ৭০ বছর বয়সি এক ব্যক্তি। জাহাজেই তাঁর মৃত্যু হয়।
স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বেড়াতে বেরিয়েছিলেন তিনি। পরে তাঁর দেহ দক্ষিণ আটলান্টিকের সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নামানো হয়। এখনও পর্যন্ত কয়েকজনের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্তত ৮ জন আক্রান্ত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভাইরাস সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়। তাদের মলমূত্র, লালা বা দেহাবশেষের সংস্পর্শে এলে সংক্রমণ ঘটতে পারে। এটি শরীরে প্রবেশ করলে মূলত ফুসফুস ও কিডনির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। শুরুতে জ্বর, পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা এবং খিঁচুনির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।