পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ ব্লু লাইনের মেট্রো রুটকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করে তুলতে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র। এই প্রকল্পে প্রায় ৬৭২ কোটি টাকা খরচের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য, যাত্রীদের আরও দ্রুত ও ঘন ঘন পরিষেবা দেওয়া এবং ভবিষ্যতে ট্রেনের ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা।
আরও পড়ুন:
বর্তমানে ব্যস্ত সময়ে এই পথে গড়ে প্রতি পাঁচ মিনিট অন্তর ট্রেন চলাচল করে। মেট্রো কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সেই ব্যবধান কমিয়ে প্রায় আড়াই মিনিটে নামিয়ে আনা। এতে যাত্রীদের অপেক্ষার সময় যেমন কমবে, তেমনই বাড়বে যাতায়াতের সুবিধা।
এই প্রকল্পের একটি বড় অংশ ব্যয় করা হবে নতুন বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র গড়ে তুলতে। মোট বরাদ্দের একটি বড় অংশ দিয়ে সাতটি নতুন বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। বাকি অর্থ খরচ হবে পুরোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ বদলে আরও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবস্থা বসাতে। এর মধ্যে থাকবে নতুন বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, দ্রুতগতির নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আধুনিক তারের নেটওয়ার্ক। ইঞ্জিনিয়ারদের মতে, ট্রেনের ব্যবধান কমাতে গেলে প্রতিটি স্টেশনের জন্য আলাদা বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র থাকা জরুরি। কারণ দ্রুত পরপর ট্রেন চালাতে গেলে নিরবচ্ছিন্ন এবং শক্তিশালী বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আরও পড়ুন:
এই মেট্রো পথ দেশের প্রাচীনতম। এর নির্মাণ শুরু হয়েছিল কয়েক দশক আগে। সেই সময়কার প্রযুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি হওয়ায় তা এখন অনেকটাই পুরোনো হয়ে পড়েছে। বর্তমানে উচ্চক্ষমতার বিদ্যুৎ প্রথমে কয়েকটি কেন্দ্রে এসে কম ক্ষমতায় রূপান্তরিত হয়, তারপর তা ট্রেন চলাচলের উপযোগী করে পাঠানো হয়। নতুন প্রযুক্তিতে এই ধাপগুলো অনেক সহজ এবং কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। মেট্রোর একাধিক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, আধুনিক উপকেন্দ্রগুলো সরাসরি উচ্চক্ষমতার বিদ্যুৎ সামলাতে সক্ষম।
ফলে পুরোনো বিদ্যুৎ গ্রহণ কেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে যাবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ব্যবহৃত পুরোনো পরিকাঠামোও ধীরে ধীরে বাদ দেওয়া হবে।আরও পড়ুন:
এই পথে বর্তমানে ২৬ টি স্টেশন রয়েছে। এই সমস্ত কাজ হলে প্রায় প্রতিটি স্টেশনেই আলাদা বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র থাকবে। বিশেষভাবে দুটি স্টেশনের মাঝের দীর্ঘ দূরত্বের কথা মাথায় রেখে সেখানে অতিরিক্ত একটি কেন্দ্র তৈরি করা হবে। কয়েকটি নতুন বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের নির্মাণকাজ ইতিমধ্যেই শেষ পর্যায়ে। সেগুলি খুব শীঘ্রই চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আরও কয়েকটি নতুন কেন্দ্র পর্যায়ক্রমে গড়ে তোলা হবে।