পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাজ্যের আরও তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগের পথ খুলে গেল। বহুদিন ধরে আটকে থাকা এই প্রক্রিয়া সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে চূড়ান্ত গতি পেয়েছে। খুব শীঘ্রই মৌলানা আবুল কালাম আজ়াদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ম্যাকাউট), উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য দায়িত্ব গ্রহণ করতে চলেছেন।
আরও পড়ুন:
প্রায় তিন বছর ধরে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতায় এই নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে ছিল। শেষ পর্যন্ত শীর্ষ আদালতের তত্ত্বাবধানে গঠিত বিশেষ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উপযুক্ত প্রার্থীদের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যেই সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে নিয়োগ কার্যকর করতে হবে। এই নিয়োগের জন্য আদালতের নির্দেশে বিশেষ বাছাই পর্ব আয়োজন করা হয়েছিল। চলতি বছরের মার্চ মাসে শুরু হয় সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া। ম্যাকাউটের জন্য ডাকা হয়েছিল ১৫ জন প্রার্থীকে, যার মধ্যে ১৩ জন উপস্থিত ছিলেন। এরপর উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ১৭ জনের মধ্যে ১৪ জন সাক্ষাৎকারে অংশ নেন। একইভাবে নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও একাধিক প্রার্থীর মধ্য থেকে বেছে নেওয়া হয় চূড়ান্ত নাম।আরও পড়ুন:
চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, মৌলানা আবুল কালাম আজাদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হচ্ছেন তাপস চক্রবর্তী। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন দ্বৈপায়ন ভরদ্বাজ। আর নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন রাজন চক্রবর্তী। এর আগেও চলতি বছরের শুরুতে রাজ্যের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্যের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল।
জানুয়ারি মাসে কয়েকটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন নেতৃত্বের নাম প্রকাশ্যে আসে। পরে ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁদের হাতে আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।আরও পড়ুন:
সেই তালিকায় ছিল সংস্কৃত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়, হরিচাঁদ গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয়, রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, বাবাসাহেব আম্বেডকর শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়। পাশাপাশি কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও নতুন উপাচার্যের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। শিক্ষামহলের মতে, দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী নেতৃত্বের অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রশাসনিক কাজকর্ম ও একাধিক নীতিগত সিদ্ধান্তে জট তৈরি হচ্ছিল। নতুন উপাচার্যরা দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই অচলাবস্থা কাটবে বলেই আশা করা হচ্ছে।