পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ মুর্শিদাবাদ জেলাজুড়ে বেগুন চাষে নেমে এসেছে বড়সড় সংকট। চারা রোপণের মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই গাছ শুকিয়ে মারা যাচ্ছে, ফলে একের পর এক জমি কার্যত ফাঁকা হয়ে পড়ছে। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন জেলার চাষিরা। তাঁদের দাবি, কোনও অজানা মোজাইক ভাইরাসের সংক্রমণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন:
চাষিদের কথায়, প্রথমে গাছের পাতাগুলি হলুদ হয়ে যেতে শুরু করছে। ধীরে ধীরে সেই হলদে ভাব গোটা গাছে ছড়িয়ে পড়ছে। কিছুদিনের মধ্যেই গাছ সম্পূর্ণ শুকিয়ে মারা যাচ্ছে।
ফলে ফলন পাওয়ার আগেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে পুরো ক্ষেত। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বহু কৃষক। জেলার বহরমপুর, বেলডাঙা, সারগাছি, শক্তিপুর, বড়ঞা, কান্দি ও হরিহরপাড়া এলাকায় ব্যাপক হারে বেগুন চাষ হয়। কিন্তু এবারের এই সংক্রমণ সেই চাষে বড় ধাক্কা দিয়েছে। বহু জমিতে ইতিমধ্যেই গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।আরও পড়ুন:
চাষিরা জানান, রোগ প্রতিরোধে নানা ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করা হলেও তাতে কোনও সুফল মিলছে না। উদ্যানপালন দফতরের আধিকারিকেরাও স্বীকার করেছেন, একবার ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে যায়।
দফতরের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এক ধরনের সাদা মাছি এই রোগের মূল বাহক। এই মাছিগুলি গাছে বসার পর ভাইরাস দ্রুত এক গাছ থেকে অন্য গাছে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই গোটা ক্ষেত আক্রান্ত হয়ে যাচ্ছে।আরও পড়ুন:
তবে প্রতিরোধের জন্য কিছু কার্যকর উপায়ের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, চারা রোপণের সময় থেকেই সতর্কতা নেওয়া জরুরি। বেগুন ক্ষেতের চারপাশে ভুট্টা লাগালে তা প্রাকৃতিক সুরক্ষা বলয়ের কাজ করতে পারে এবং ভাইরাসবাহী মাছির আক্রমণ অনেকটাই কমানো সম্ভব। এতে একদিকে যেমন গাছ সুরক্ষিত থাকবে, অন্যদিকে চাষিদের অতিরিক্ত আয়ের সুযোগও তৈরি হবে।
এছাড়া ক্ষেতের চারদিকে প্রায় চার ফুট উচ্চতার পলিথিনের বেড়া দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। কারণ এই সাদা মাছি সাধারণত খুব বেশি উঁচুতে উড়তে পারে না। ফলে এই বাধা তাদের প্রবেশ অনেকটাই আটকাতে পারে।আরও পড়ুন:
ভাইরাসের সংক্রমণের পাশাপাশি অতিবৃষ্টিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অতিরিক্ত জল জমে অনেক ক্ষেতেই গাছ পচে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছেন জেলার বেগুন চাষিরা। দ্রুত কার্যকর সমাধান না মিললে এবারের মরসুমে বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।