দীর্ঘ দশ বছর পর ফের ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-এর হাত ধরে কেরলে ক্ষমতায় ফিরেছে কংগ্রেস শিবির। ১৪০ আসনের বিধানসভায় ১০২টি আসনে জয় পেয়েছে ইউডিএফ। অন্যদিকে এলডিএফ পেয়েছে মাত্র ৩৫টি আসন। এই বিপুল জয়ের পরই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কেরলের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হতে চলেছেন?
আরও পড়ুন:
রাজ্য রাজনীতিতে বর্তমানে তিনটি নাম নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে। তাঁরা হলেন ভি ডি সতীশন, কে সি বেণুগোপাল এবং রমেশ চেন্নিতালা।
দলীয় সূত্রে খবর, এই নিয়ে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। এমনকি রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মধ্যেও পছন্দের মুখ নিয়ে আলাদা মত রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রী পদে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে ভি ডি সতীশনকে। গত পাঁচ বছর তিনি বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব সামলেছেন। ২০১৬ এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরও কংগ্রেস সংগঠনকে ধরে রাখা এবং শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁর নেতৃত্বেই গত লোকসভা নির্বাচনে কেরলে ২০টির মধ্যে ১৮টি আসনে জয় পায় ইউডিএফ।
পাশাপাশি পুরসভা নির্বাচন এবং উপনির্বাচনেও ভালো ফল করেছিল জোট। সংগঠন মজবুত করার পাশাপাশি এলডিএফ সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে সরব ছিলেন সতীশন।আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপালের নামও জোরালোভাবে উঠে আসছে। কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, কংগ্রেসের ৬৩ জন জয়ী বিধায়কের মধ্যে বড় অংশই বেণুগোপালের পক্ষেই রয়েছেন। তবে বর্তমানে তিনি লোকসভার সাংসদ।
মুখ্যমন্ত্রী হলে তাঁকে সাংসদ পদ ছাড়তে হবে এবং ছয় মাসের মধ্যে উপনির্বাচনে জিতে আসতে হবে। এই বিষয়টি তাঁর ক্ষেত্রে কিছুটা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।আরও পড়ুন:
এছাড়া অভিজ্ঞ নেতা রমেশ চেন্নিতালার নামও আলোচনায় রয়েছে। তিনি ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিরোধী দলনেতা ছিলেন। এর আগে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন। ছয়বারের বিধায়ক হিসেবে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাঁকে মুখ্যমন্ত্রিত্বের দৌড়ে অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার করে তুলেছে।
আরও পড়ুন:
যদিও কংগ্রেস হাইকমান্ড এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। দলীয় নেতৃত্ব কর্মী-সমর্থকদের ধৈর্য ধরার বার্তা দিলেও রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।