পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: দেশের জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’-র সমতুল্য আইনি মর্যাদা পেতে চলেছে জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম্‌’। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এই ঐতিহাসিক প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির অভাবনীয় সাফল্যের পর এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী সৃষ্টির সার্ধশতবর্ষেই এই বিশেষ সম্মান প্রদান করা হলো।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ‘প্রিভেনশন অফ ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার অ্যাক্ট’ (Prevention of Insults to National Honour Act)-এর ৩ নম্বর ধারায় সংশোধন আনার সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছে।

এর ফলে ‘বন্দে মাতরম্‌’ গাওয়ার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা সৃষ্টি করা বা গানটিকে অপমান করা এখন থেকে দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে ন্যূনতম এক বছরের কারাদণ্ডসহ আরও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। ২০০৫ সালে এই আইনে জাতীয় পতাকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশোধনী আনা হয়েছিল। এবার সেই একই রক্ষাকবচ দেওয়া হলো ‘বন্দে মাতরম্‌’-কেও।

সরকারি সূত্রের খবর, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে যে গানটি লক্ষ লক্ষ বিপ্লবীর প্রেরণা ছিল, তার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক মর্যাদা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। গত ডিসেম্বর মাসে গানটির ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সংসদে একটি বিশেষ আলোচনা হয়েছিল। সেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদি আক্ষেপ করে বলেছিলেন, এই গানটিকে দীর্ঘদিন ধরে ‘একঘরে ও সাম্প্রদায়িক’ করার চেষ্টা করা হয়েছে। সংসদীয় বিতর্কের পর চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি নির্দেশিকা জারি করেছিল। সেখানে সমস্ত প্রধান সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম্‌’-এর ছয়টি স্তবকই গাওয়ার সুপারিশ করা হয়। এখন মন্ত্রিসভার এই সম্মতির পর এটি আইনি ভিত্তি পেতে চলেছে।