পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: বাংলায় বিজেপির প্রত্যাবর্তন। সোমবার দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ইতিহাস গড়ল বিজেপি। ২৯৪টি আসনের বিধানসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল ১৪৮টি আসন, কিন্তু সমস্ত হিসাব উল্টে দিয়ে ২০৬টি আসনে জয়লাভ করে একক শক্তি অর্জন করেছে গেরুয়া শিবির। এই বিপুল জয়ের পর এখন রাজনৈতিক মহলে এবং জনমানসে একটাই প্রশ্ন— পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন কে?
নবান্নে যাওয়ার দৌড়ে বর্তমানে যে চারজন হেভিওয়েট নেতার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। তাঁরা হলেন:আরও পড়ুন:
শুভেন্দু অধিকারী
আরও পড়ুন:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী শুভেন্দু অধিকারী এখন বিজেপির তুরুপের তাস। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর পর, ২০২৬-এর নির্বাচনেও ভবানীপুর কেন্দ্রে তাঁর প্রাক্তন নেত্রীকে পরাজিত করে ফের ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি। বিরোধী দলনেতা হিসেবে সংখ্যালঘু তোষণ, অনুপ্রবেশ এবং আইন-শৃঙ্খলা ইস্যুতে মমতা সরকারকে কোণঠাসা করে তিনি দলের অন্দরে নিজের পাল্লা ভারী করেছেন।
আরও পড়ুন:
দিলীপ ঘোষ
রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষকে ধরা হয় বাংলায় দলের ভিত মজবুত করার প্রধান কারিগর। ২০১৬ সালে যখন বিধানসভায় বিজেপির মাত্র ৩টি আসন ছিল, সেখান থেকে ২০১৯-এর লোকসভায় ১৮টি আসন জেতানো পর্যন্ত তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা প্রশ্নাতীত। আরএসএস (RSS)-এর আদর্শে দীক্ষিত এবং প্রাক্তন সংঘ প্রধান কে. এস. সুদর্শনের সহকারী হিসেবে কাজ করা দিলীপ ঘোষের গ্রহণযোগ্যতা দলের কট্টরপন্থী সমর্থকদের কাছে অত্যন্ত বেশি।
আরও পড়ুন:
শমীক ভট্টাচার্য
আরও পড়ুন:
বিজেপির সুসময়ের অনেক আগে থেকেই দলের সঙ্গে যুক্ত শমীক ভট্টাচার্য।
২০১৪ সালের উপনির্বাচনে বসিরহাট দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে তিনি ছিলেন এ রাজ্যে বিজেপির প্রথম নির্বাচিত বিধায়ক। আরএসএস ব্যাকগ্রাউন্ড এবং শান্ত অথচ তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক বিশ্লেষণের জন্য পরিচিত শমীক ভট্টাচার্যকেও মুখ্যমন্ত্রী পদের অন্যতম দাবিদার মনে করা হচ্ছে।আরও পড়ুন:
অগ্নিমিত্রা পাল
আরও পড়ুন:
২০১৯ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নিজের লড়াকু মেজাজের পরিচয় দিয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল। দলের মহিলা মোর্চার সভানেত্রী হিসেবে রাজ্যের ২৩টি জেলায় মহিলাদের আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তিনি সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। ২০২১-এ সায়নী ঘোষকে হারিয়ে প্রথমবার বিধানসভায় আসা অগ্নিমিত্রা এখন দলের অন্যতম ‘ফায়ারব্র্যান্ড’ নেত্রী, যাঁর নামও সম্ভাব্য তালিকায় উঠে আসছে।
আরও পড়ুন:
বিজেপি সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং নবনির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠকের পরই চূড়ান্ত হবে মুখ্যমন্ত্রীর নাম। ২০৬টি আসনের বিশাল জয় নিয়ে ক্ষমতায় আসা বিজেপির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো বাংলার মানুষের জন্য এক যোগ্য এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্ব বেছে নেওয়া।