পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ সকাল থেকেই ফলতা কেন্দ্র বাদ দিয়ে রাজ্যের বাকি ২৯৩টি বিধানসভা আসনের ভোটগণনা শুরু হয়েছে। প্রাথমিক প্রবণতায় রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াই অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ১৯৪টি আসনে, আর তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে ৯৫টি আসনে। বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস একটি করে আসনে এগিয়ে রয়েছে। তবে গণনার প্রতিটি পর্বে এই চিত্র বদলে যাচ্ছে, ফলে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা তুঙ্গে।

এই পরিস্থিতিতে দিল্লিতে বসেই রাজ্যের ভোটগণনার প্রতিটি মুহূর্তের খবরাখবর নিচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সূত্রের খবর, সোমবার সকাল থেকেই তিনি দিল্লির নিয়ন্ত্রণকক্ষে অবস্থান করছেন। কলকাতার সল্টলেকে বিজেপির অস্থায়ী নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে প্রতি মুহূর্তের হালনাগাদ তথ্য তাঁর কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

এবারের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন বিজেপির কাছে বিশেষ মর্যাদার লড়াই হিসেবে দেখা হয়েছিল। ভোটের আগে প্রায় দু’সপ্তাহ রাজ্যে থেকে একাধিক জনসভা, পথসভা এবং সাংগঠনিক বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন অমিত শাহ।

দলের কর্মী থেকে শীর্ষ নেতৃত্ব সব স্তরের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করে ভোটের কৌশল চূড়ান্ত করেছিলেন তিনি। তাই ফল ঘোষণার দিন স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি চাপ রয়েছে গেরুয়া শিবিরে।

রাজ্যের দায়িত্বে থাকা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারাও এদিন কলকাতাতেই রয়েছেন। সল্টলেকের নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে প্রতিটি কেন্দ্রের গণনার অগ্রগতি, কোথায় কত ভোটে এগিয়ে বা পিছিয়ে রয়েছে দল, সেই সমস্ত তথ্য দ্রুত দিল্লিতে পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। ভোটগণনাকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরেই দলীয় স্তরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিল বিজেপি।

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক সাংগঠনিক বৈঠক করেন দলের পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল। উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-সহ শীর্ষ নেতৃত্ব। জেলা সভাপতি, প্রার্থী এবং কেন্দ্রভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নিয়ে ধাপে ধাপে বৈঠক করে গণনার দিনের রণকৌশল ঠিক করা হয়।

প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে দলের প্রার্থী, গণনা-প্রতিনিধি এবং কর্মীদের কীভাবে কাজ করতে হবে, কোন পরিস্থিতিতে কী পদক্ষেপ নিতে হবে তা নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি আলাদা করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়, যাতে ভোটগণনার দিনে কোনও ত্রুটি না থাকে। এখন গোটা বাংলার নজর একটাই প্রশ্নে মানুষ কি ফের শাসকদলের উপরই আস্থা রাখলেন, নাকি পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিলেন? চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ সবাই।