পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ মোথাবাড়িতে এসআইআরের কাজে নিযুক্ত বিচারপতিদের ঘেরাও ও আটকে রাখার ঘটনাকে ঘিরে আবারও সক্রিয় হল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। ভোটগণনার ঠিক আগের দিন মালদহের কালিয়াচকে তৃণমূলের একাধিক নেতাকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদহ জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ আবদুর রহমানকে তলব করা হয়েছে।

তিনি সুজাপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিনের নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন। পাশাপাশি কালিয়াচক এক নম্বর ব্লক তৃণমূল সভাপতির দায়িত্বে থাকা মহম্মদ সরিউলকেও ডেকে পাঠানো হয়েছে। রবিবার দুপুরের মধ্যে তাঁদের কালিয়াচক থানায় হাজির থাকতে বলা হয়েছে বলে খবর। ঘটনার সূত্রপাত গত ১ এপ্রিল।
এসআইআরের কাজে নির্বাচন কমিশনের গঠিত ট্রাইব্যুনালের সদস্যরা মালদহের মোথাবাড়ি এলাকায় পৌঁছনোর পর স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। অভিযোগ, সাতজন বিচারপতিকে বিডিও অফিসের ভিতরে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়েছিল। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত দেশের শীর্ষ আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

পরবর্তীতে শীর্ষ আদালতের নির্দেশে এই ঘটনার তদন্তভার জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে যায়।

যদিও তার আগেই রাজ্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোফাক্কেরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ব্যক্তি পুরো ঘটনার অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী।

এই মামলায় এখনও পর্যন্ত মোট বাহান্ন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে কেউ তদন্তকারী সংস্থার হেফাজতে রয়েছেন, আবার কেউ জেল হেফাজতে। তদন্তের স্বার্থে আরও তথ্য সংগ্রহ এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই এবার স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের তলব করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। এ দিকে ভোটের ফল ঘোষণার ঠিক আগের দিন শাসকদলের নেতা এবং নির্বাচনী এজেন্টদের ডেকে পাঠানোকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তৃণমূল শিবিরের একাংশের দাবি, এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।