পুবের কলম  ওয়েবডেস্ক :
সরকারি ত্রাণ (ত্রিপল) মজুত ও দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কৃষ্ণনগরের তৃণমূল নেতা উজ্জ্বল বিশ্বাস গ্রেফতার হওয়ার পর, সাংসদ মহুয়া মৈত্র স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। দলীয় নেতার বাড়িতে জনরোষ ও বিরোধীদের বিক্ষোভের সময় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
মহুয়া মৈত্র ও উজ্জ্বলের পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা বিজেপির কর্মী-সমর্থক। পুলিশের উপস্থিতিতেই তাঁরা প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়িতে ঢুকে তাঁর উপর চড়াও হন। চলে ভাঙচুর।

গায়ে মুখে ডিম ছোড়া হয়। পরিবারের আর এক জনকে হেনস্থাও করা হয়। উজ্জ্বলকে গ্রেফতারের দাবিতে জনতা অনড় থাকায় কোতোয়ালি থানার পুলিশ তাঁকে থানায় তুলে নিয়ে যায়। রাতে পুলিশ জানায়, বেআইনি ভাবে ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখার অভিযোগে প্রাক্তন মন্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে তাঁর এক সঙ্গীকেও।
মহুয়া  বলেন, ‘‘ বিধায়ক হিসাবে নিজের কোটায় ওই ত্রাণসামগ্রী পেয়েছিলেন উজ্জ্বল'দা । বিলি না-হওয়া ত্রিপল, ধুতি, শাড়ি, জামা, লেগিংস-সহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী ঘরেই রাখা ছিল। সম্প্রতি তিনি নদিয়ার জেলাশাসক এবং কৃষ্ণনগর-২ ব্লকের বিডিও-কে চিঠি লিখে সেগুলি ফেরত নিয়ে যেতে বলেছিলেন। বুধবার বিকেলে পুলিশকে নিয়ে বিডিও অফিসের কর্মীরা সেগুলি ফেরত নিয়ে যেতে এসেছিলেন। কিন্তু তাঁদের সঙ্গে আসা বিজেপি কর্মীরা হামলা চালিয়েছে।
’’
নদিয়ার কৃষ্ণনগরে উজ্জ্বল বিশ্বাসের গ্রেফতারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহুয়া মৈত্র এক্স  হ্যান্ডেল এ  বলেন ,প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়িতে স্থানীয় বাসিন্দারা নয় ,বিজেপি  বিক্ষোভ দেখায়   এবং তাঁর উপর ডিম ছোঁড়েন। উজ্জ্বলের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, হামলাকারীরা বিজেপির কর্মী-সমর্থক। মহুয়া মৈত্র সরাসরি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।উজ্জ্বল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে তিনি দলীয় কার্যালয় বা ব্যক্তিগত বাসভবনে অবৈধভাবে সরকারি ত্রাণসামগ্রী মজুত করে রেখেছিলেন। বিজেপি  সরকারি ত্রিপল চুরির অভিযোগ তুলে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যায় এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেফতার করে। বুধবার  তাকে  কৃষ্ণনগর  আদালতে  তোলা হয়েছে।