পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: কোটার মাতৃমৃত্যুর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রাজস্থানের বিকানেরের পিবিএম সরকারি হাসপাতালে এক গুরুতর চিকিৎসা সংকট সামনে এল। সন্তান প্রসবের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই পাঁচজন প্রসূতি মা মারাত্মক ইনফেকশন এবং কিডনি বিকল হওয়ার মতো তীব্র স্বাস্থ্য জটিলতার শিকার হয়েছেন। আক্রান্ত মায়েদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বর্তমানে তাঁরা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন এবং তাঁদের নিয়মিত ডায়ালিসিস চলছে। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসেছে রাজস্থান সরকার।

পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য মঙ্গলবার জয়পুরের স্বাস্থ্য ভবনে একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক ডাকেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী গজেন্দ্র সিং খিমসার। স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে হওয়া এই বৈঠকে মন্ত্রী পুরো ঘটনার একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছেন।

পিবিএম হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রসবের ১০ থেকে ১৫ দিন পর এই পাঁচজন নারী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। আক্রান্তদের মধ্যে দুজনের সিজারিয়ান এবং বাকি তিনজনের স্বাভাবিক প্রসব হয়েছিল।

প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গেছে, মায়েরা প্রসব-পরবর্তী নানা জটিলতায় ভুগছেন, যার মধ্যে রয়েছে- প্রস্রাব আটকে যাওয়া এবং রক্তে প্লেটলেটের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া। তীব্র অভ্যন্তরীণ সংক্রমণ এবং তার জেরে কিডনি বিকল বা ফেলিওর হওয়া। হাসপাতালের সুপারিন্টেন্ডেন্ট বি. সি. ঘিয়া জানান, গর্ভাবস্থা বা প্রসব-সংক্রান্ত জটিলতা অস্বাভাবিক নয়, তবে গত এক সপ্তাহে এই ধরনের ঘটনা হঠাৎ বেশ বেড়ে গেছে। অসুস্থ মায়েদের মধ্যে ফলৌদি এলাকার বাসিন্দা ২০ বছর বয়সী এক তরুণীর অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক এবং তাঁকে বর্তমানে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের একটি বিশেষ দল সার্বক্ষণিকভাবে তাঁদের পর্যবেক্ষণ করছেন।

এদিন বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী গজেন্দ্র সিং খিমসার স্পষ্ট করে বলেন, বিকানেরের এই ঘটনাটিকে কোটার মাতৃমৃত্যুর মামলার সাথে মিলিয়ে দেখা ঠিক হবে না। দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন সময়ে এবং ভিন্ন পরিস্থিতিতে ঘটেছে। মন্ত্রী আরও বলেন, "প্রাথমিক দৃষ্টিতে এটিকে হাসপাতালের কোনো গাফিলতি বলে মনে হচ্ছে না। তবে প্রতিটি বিষয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি তদন্তে কোনো ধরনের অবহেলা বা ত্রুটি প্রমাণিত হয়, তবে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"