পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষা দুর্নীতির অভিযোগে বাতিল হওয়ার পর দেশজুড়ে মানসিক অবসাদের ছায়া। প্রশ্নফাঁসের জেরে পরীক্ষা বাতিলের পর থেকেই একের পর এক পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবর সামনে আসছে। এবার রাজস্থানের সীকরে এক মেডিক্যাল পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই নিয়ে দেশজুড়ে গত কয়েক দিনে আরও চারজন নিট পরীক্ষার্থী চরম পথ বেছে নিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ছাত্রের নাম প্রদীপ মেঘওয়াল। সে ঝুনঝুনুর গুধা গৌড়জি এলাকার কানিকা কি ধানি গ্রামের বাসিন্দা ছিল।

গত তিন বছর ধরে সীকরের একটি বেসরকারি কোচিং সেন্টারে থেকে দুই বোনের সঙ্গে নিটের প্রস্তুতি নিচ্ছিল প্রদীপ। উদ্যোগ নগর থানার স্টেশন হাউস অফিসার (SHO) রাজেশ কুমার জানান, শুক্রবার দুপুরে প্রদীপের ছোট বোন কোচিংয়ে ছিল এবং বড় বোন বাথরুমে গিয়েছিলেন। সেই সুযোগে ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে দিদির ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগায় প্রদীপ। বড় বোন ফিরে এসে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে ওড়না কেটে নামান এবং পুলিশ ও বাড়িওয়ালাকে খবর দেন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা প্রদীপকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রদীপের বাবা রাজেশ কুমার মেঘওয়াল পুলিশকে জানান, ৩ মে হওয়া পরীক্ষায় প্রদীপ অত্যন্ত ভালো ফল করেছিল।

পরিবার আশা করছিল সে এবার অন্তত ৬৫০ নম্বর পাবে। কিন্তু পরীক্ষা বাতিলের খবর আসার পর থেকেই সে গভীর মানসিক অবসাদে ভুগছিল।

একই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে দেশের অন্যান্য প্রান্তেও। দিল্লির আজাদপুরে ২০ বছর বয়সী এক তরুণী নিট পরীক্ষার্থী নিজের বাড়িতে আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোট মেলেনি। তবে পুলিশকে না জানিয়েই তড়িঘড়ি পরিবার দেহটি শ্মশানে নিয়ে যাওয়ায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরির বাসিন্দা ২১ বছরের ঋত্বিক মিশ্র বৃহস্পতিবার আত্মহত্যা করেন। পরিবারের দাবি, এটি ছিল ঋত্বিকের তৃতীয় প্রচেষ্টা এবং পরীক্ষা নিয়ে সে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ছিল। কিন্তু আকস্মিক পরীক্ষা বাতিলের ধাক্কা সামলাতে না পেরেই সে এই চরম সিদ্ধান্ত নেয়।

এদিকে দক্ষিণ গোয়ার মারগাও এলাকায় এক ১৭ বছর বয়সী কিশোর বুধবার সন্ধ্যায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। সেও এবার নিট-ইউজি পরীক্ষায় বসেছিল। তবে আত্মহত্যার আগে লেখা একটি নোটে সে জানিয়েছে, হকি খেলার প্রতি ভালোবাসা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার পড়াশোনার চাপের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে না পারার গ্লানি থেকেই সে এই পথ বেছে নিয়েছে। পরীক্ষা ব্যবস্থার গলদ ও প্রশ্নফাঁসের মাশুল যেভাবে দেশের তরুণ প্রজন্মকে নিজের জীবন দিয়ে চোকাতে হচ্ছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।