ফলতায় পুনর্নির্বাচনের আগে ফের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি। শুক্রবার গভীর রাতে ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তথা জাহাঙ্গির খান ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা সাইদুল খানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা এবং রাজনৈতিক হিংসা ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি পুলিশের। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই সাইদুল খানের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছিল। সেই অভিযোগের তদন্তে নেমেই শুক্রবার রাতে তাঁর বাড়িতে হানা দেয় ফলতা থানার পুলিশ।

এরপর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হলেও এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

আগামী ২১ মে ফলতায় পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গণনা ২৪ মে। তবে তার আগেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। তৃণমূলকে সরিয়ে বাংলার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি সরকার।

নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শনিবার ডায়মন্ড হারবারে প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি ফলতায় দলীয় কর্মিসভাও করবেন। এছাড়া ১৯ মে প্রচারের শেষ দিনে ফলতায় তাঁর রোড শো হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে বিজেপি কর্মীদের মধ্যেও বাড়ছে উৎসাহ।

এই আবহেই দীর্ঘদিন পর শুক্রবার প্রকাশ্যে দেখা যায় ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে। সকালে তিনি নিজের দলীয় কার্যালয়ে যান। উল্লেখ্য, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর তাঁর ওই কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ।

সেখানে বিজেপির পতাকাও লাগানো হয়েছিল।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জাহাঙ্গির খান দাবি করেন, বিজেপি সরকার গঠনের পর প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় বাহিনী তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। সেই কারণেই তিনি প্রকাশ্যে আসেননি। তাঁর কথায়, “অশান্তি এড়াতেই সামনে আসিনি। আমি বাড়িতেই ছিলাম। পুলিশ আমাকে ফিরিয়ে এনেছে— এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।”