মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত জানতে চায়, সিবিআই ডিরেক্টর নিয়োগের কমিটিতে দেশের প্রধান বিচারপতি থাকলেও নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের প্যানেল থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া হল কেন?
শুনানিতে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত বলেন, “সিবিআই ডিরেক্টর নিয়োগে প্রধান বিচারপতি রয়েছেন। সেখানে আইন-শৃঙ্খলা ও আইনের শাসনের প্রশ্ন জড়িত। কিন্তু গণতন্ত্র রক্ষা ও স্বচ্ছ নির্বাচন কি তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ?

যদিও বিচারপতি স্পষ্ট করে জানান, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ কমিটিতে প্রধান বিচারপতিকে রাখতেই হবে— আদালত এমন কথা বলছে না। তবে তাঁর প্রশ্ন, “কমিটিতে একজন নিরপেক্ষ সদস্য কেন থাকবেন না? কেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকেই একজনকে রাখতে হবে?”

বর্তমান আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের প্যানেলে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই কাঠামোয় সরকারের পক্ষেই স্বাভাবিকভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে যায়।

বিচারপতি দত্ত বলেন, “আজ প্রধানমন্ত্রী একজন প্রার্থীকে সমর্থন করলেন, আর বিরোধী দলনেতা অন্য কাউকে চাইছেন। সেই পরিস্থিতিতে তৃতীয় সদস্য হিসেবে থাকা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কি কখনও সরকারের বিরুদ্ধে মত দেবেন?”

এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটারামানি। তিনি শুধু বলেন, “বাস্তবে তা নাও হতে পারে। তবে আমি কোনও অনুমান করতে চাই না।


এর পরেই আদালতের তীব্র পর্যবেক্ষণ, “তা হলে তো ধরে নিতে হয় সরকারই পুরো প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে।”

সুপ্রিম কোর্ট আরও জানায়, তিন সদস্যের কমিটিতে দু’জনের সমর্থনেই সিদ্ধান্ত হয়ে যায়। ফলে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মত এক হলে বিরোধী দলনেতার আপত্তি কার্যত গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। আদালতের প্রশ্ন, “এ ধরনের নিয়োগে প্রশাসনিক ভেটো ক্ষমতা থাকবে কেন? এত নজির থাকা সত্ত্বেও সংসদ কি বিষয়টি বিবেচনা করেনি?”

নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে এই মন্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে আইন মহল।