পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ভোট-পরবর্তী অশান্তি সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টে গিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল-এর এজলাসে আইনজীবীর ভূমিকায় সওয়ালও করেন তিনি। কিন্তু আদালতকক্ষ থেকে বেরোনোর পরেই হাই কোর্ট চত্বরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় তাঁকে।

সকাল এগারোটার আগেই আদালত চত্বরে পৌঁছে যান মমতা। আইনজীবীর পোশাকে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেন-এর ডিভিশন বেঞ্চে হাজির হয়ে মামলার শুনানিতে অংশ নেন তিনি।

ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলাটি করেছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর পুত্র তথা আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। শুনানি শেষ হওয়ার কিছু পরেই হাই কোর্টের লবিতে তৈরি হয় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি। আদালতে মমতার উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই সেখানে ভিড় জমিয়েছিলেন আইনজীবীদের একাংশ। এজলাস থেকে বেরিয়ে আসার সময় তাঁদেরই একাংশ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে স্লোগান দিতে শুরু করেন। ‘চোর’ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি ভিড়ের মধ্য থেকে একাধিক কুরুচিকর মন্তব্যও শোনা যায় বলে অভিযোগ।

পরিস্থিতি ক্রমশ অশান্ত হয়ে উঠতে থাকলে দ্রুত আদালত চত্বর ছাড়েন মমতা। বেরিয়ে যাওয়ার সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ওরা আমাকে মেরেছে।” তাঁর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। এদিকে ঘটনাটির তীব্র নিন্দা করেছে তৃণমূল শিবির। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “যাঁরা এতদিন গণতন্ত্রের কথা বলতেন, তাঁদের এখন অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত। রাজ্যের তিন বার নির্বাচিত এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আদালতে গিয়েছেন। সেখানে যদি এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা হলে রাজ্যে কেমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাইছে বিজেপি, সেটাই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”