পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: নিট-ইউজি ২০২৬-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসকাণ্ডে এবার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনল রাজস্থান পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ। প্রাথমিক তদন্তের পর এসওজি-র দাবি, এই প্রশ্ন ফাঁসের শিকড় রাজস্থান ছাড়িয়ে হরিয়ানা এবং মহারাষ্ট্র পর্যন্ত বিস্তৃত। ইতিমধ্য়েই এই মামলার তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং ধৃত সন্দেহভাজনদের কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রাজস্থান এসওজি-র আইজি অজয় পাল লাম্বা মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর এই বহুজাতিক চক্রের হদিশ মিলেছে।
আরও পড়ুন:
আইজি লাম্বা জানিয়েছেন, সিকার, ঝুনঝুনু, আলওয়ার এবং জয়পুর পুলিশ সম্মিলিতভাবে ১৫০ জনেরও বেশি পরীক্ষার্থী, তাঁদের বন্ধু এবং অভিভাবকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
সেখান থেকে জানা গেছে, পরীক্ষা শুরুর আগেই রাজস্থানে প্রশ্নপত্রটি পাঠিয়েছিলেন হরিয়ানার এক বাসিন্দা। হরিয়ানার ওই ব্যক্তিকে জেরা করে জানা যায়, প্রশ্নপত্রটি তাঁর কাছে এসেছিল মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে। মহারাষ্ট্র থেকে হরিয়ানা হয়ে রাজস্থানে প্রশ্ন পৌঁছে যাওয়ার এই তথ্য এনটিএ-কে জানানোর পরই কেন্দ্র পরীক্ষা বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।আরও পড়ুন:
তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর সিবিআই আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই জয়পুরে পৌঁছেছেন। এসওজি-র পক্ষ থেকে প্রায় ২৪ জন সন্দেহভাজনকে সিবিআই-এর সামনে পেশ করা হয়েছে।
আইজি লাম্বা বলেন, “সিবিআই আমাদের তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনেছে। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সন্দেহভাজনদেরও জেরা করছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। এখন থেকে পরবর্তী সমস্ত আইনি পদক্ষেপ সিবিআই-ই নেবে।” বাজারে ভাইরাল হওয়া তথাকথিত ‘গেজ পেপার’ নিয়ে চলা বিতর্কেও সিলমোহর দিয়েছে এসওজি। পুলিশ জানিয়েছে, ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া পিডিএফ-এর সঙ্গে মূল নিট পরীক্ষার প্রশ্নের অস্বাভাবিক মিল পাওয়া গেছে। রসায়নের ৪৫টি প্রশ্ন এবং জীববিদ্যার ৯০টি প্রশ্ন— উত্তরসহ হুবহু মিলে গেছে মূল প্রশ্নপত্রের সাথে।আরও পড়ুন:
তবে রাজস্থানের আইজি স্পষ্ট করেছেন যে, এর আগে রাজ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় যে সমস্ত গ্যাং বা চক্র সক্রিয় ছিল, এই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনও সরাসরি যোগসূত্র এখনও পাওয়া যায়নি। এটি একটি সম্পূর্ণ নতুন এবং আন্তঃরাজ্য সিন্ডিকেটের কাজ বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, রাজস্থান পাবলিক সার্ভিস কমিশন-এর প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শিব সিং রাঠোড় এই বিতর্কে তাঁর নাম জড়ানো নিয়ে স্পষ্টীকরণ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, নিয়োগ সংক্রান্ত কোনও দুর্নীতির সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ নেই এবং তিনি তদন্তকারী সংস্থাকে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন।