পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনে গ্রেফতার হয়েছে তিন জন। যার মধ্যে ধৃত রাজ সিংকে নিয়ে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ জানিয়েছে, রাজ সিং একজন পেশাদার শার্প শুটার। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধমূলক কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে। আর সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর যে বিষয়টি সামনে আসছে সেটা তাঁর রাজনৈতিক যোগ নিয়ে। বিজেপি নেতাদের সঙ্গে তার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
জানা যাচ্ছে, উত্তর প্রদেশের বল্লিয়া জেলার বাসিন্দা রাজ সিং চন্দন নামে পরিচিত। দ্যা অবজারভার পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজ স্থানীয় বিজেপি এবং একাধিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। গ্রেফতারের পর রাজনৈতিক নেতা ও বিজেপি নেতাদের সঙ্গে তাঁর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি চলতি বছরের শেষের দিকে স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।আরও পড়ুন:
পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, বিহার ও পূর্ব উত্তর প্রদেশ জুড়ে সক্রিয় অপরাধী চক্রের সঙ্গে রাজের যোগসূত্র নিয়ে তদন্ত চলছে। শুধু তাই নয়, আগে ২০২০ সালে এক ব্যবসায়ীকে হত্যা মামলায় তাঁর জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছিল। বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত রয়েছেন। আর জামিন পাওয়ার পরেই তিনি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর আপ্ত সহায়ক খুন করেন বলে অভিযোগ। যদিও রাজের পরিবার সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তার মা জামবন্তী সিং দাবি করেছেন, তাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি জানান, লখনউতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে অযোধ্যার কাছে তাঁর ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্তভার নিয়েছে সিবিআই।
ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিকের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তারপরেই সিবিআইয়ের তরফে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যমগ্রামে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সিবিআই টিম। সঙ্গে ছিলেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। সিবিআইয়ের ডিআইজি পঙ্কজ কুমার সিংয়ের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের দল পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রাক্তন কর্মী তথা মুখ্যমন্ত্রীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে ৬ মে রাতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মধ্যমগ্রামের কাছে গুলি করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে ঘটনার তদন্তে নেমে এই মামলায় পুলিশ মায়ঙ্ক রাজ মিশ্র, ভিকি মৌর্য এবং রাজ সিং নামে তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। আদালত তিনজনকেই আগামী ২৪ মে পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
তাঁদের টাঙা জেরা করে একাধিক তথ্য পেয়েছে পুলিশ। জানা যায়, এসটিএফ ও স্থানীয় পুলিশের যৌথ অভিযানে বিহারের বক্সার জেলা থেকে মায়াঙ্ক রাজ মিশ্র ও ভিকি মৌর্যকে এবং উত্তর প্রদেশ থেকে রাজ সিংকে গ্রেফতার করে।আরও পড়ুন:
পুলিশ জানিয়েছে, খুনের পর পালানোর সময় অভিযুক্তরা একটি গুরুতর ভুল তারা একটি টোল প্লাজায় টোল মেটাতে ইউপিআই ব্যবহার করেছিল। তাতেই তাঁদের অবস্থান জানতে পারে পুলিশ। টোল প্লাজার সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজনদের এবং তাদের গাড়িটিকেও দেখা যায়। তদন্তকারীরা মনে করেন, হামলাকারীরা পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টায় পালানোর গাড়িতে নকল নম্বর প্লেট ব্যবহার করেছিল। কিন্তু ডিজিটাল প্রমাণ তাঁদের সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ করে। পুলিশ আরও জানায়, হামলাকারীরা সুপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছিল। গুলি চালানোর আগে চন্দ্রনাথের গতিবিধির ওপর তারা নজর রাখছিল।