পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ রাজ্যে কুড়মালি ভাষাকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে আগেই। কিন্তু, জঙ্গলমহল থেকে নির্বাচিত বিজেপির পাঁচ কুড়মি বিধায়ক কুড়মালি ভাষায় শপথ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করতেই সামনে এসেছে বড়সড় জটিলতা। বিধানসভা সচিবালয় সুত্রে জানা গিয়েছে, শপথ গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বাংলা, হিন্দি, উর্দু, ইংরেজি এবং সাঁওতালি ভাষার মধ্যেই বেছে নিতে হবে। কুড়মালি ভাষার কোনও অনুবাদকের ব্যবস্থা সেখানে নেই।
আরও পড়ুন:
এই ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়েছে কুড়মি সমাজের মধ্যে।
আদিবাসী কুড়মি সমাজের প্রধান মুখ অজিতপ্রসাদ মাহাতো প্রশ্ন তুলেছেন পূর্বতন রাজ্য সরকারের অবস্থান নিয়ে। তাঁর বক্তব্য, সরকার ২০১৮ সালে বিজ্ঞপ্তি জারি করে কুড়মালি ভাষাকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। অথচ আজ বিধানসভায় সেই ভাষার অনুবাদকই নেই। তাহলে সরকারি স্বীকৃতির বাস্তবতা কোথায়? তাঁর দাবি, অবিলম্বে কুড়মালি ভাষার অনুবাদক নিয়োগ করতে হবে, কারণ এই বিষয়ের সঙ্গে কুড়মি সমাজের আবেগ ও আত্মপরিচয় জড়িয়ে রয়েছে।আরও পড়ুন:
জঙ্গলমহল থেকে নির্বাচিত বিজেপির যে পাঁচ বিধায়ক এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন, তাঁরা হলেন জয়পুরের বিশ্বজিৎ মাহাতো, বলরামপুরের জলধর মাহাতো, বাঘমুণ্ডির রহিদাস মাহাতো, গোপীবল্লভপুরের রাজেশ মাহাতো এবং শালবনির বিমান মাহাতো। তাঁদের মধ্যে বিমান মাহাতো সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, নিয়ম মেনে কুড়মালি ভাষায় শপথ নেওয়ার আবেদন জানানো হলেও সচিবালয় থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে নির্দিষ্ট পাঁচটি ভাষার মধ্যেই শপথের ভাষা বেছে নিতে হবে। পরে যোগাযোগ করে তিনি জানতে পারেন, কুড়মালি ভাষাকে দ্বিতীয় সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও বিধানসভায় অনুবাদের কোনও পরিকাঠামোই গড়ে তোলা হয়নি।
আরও পড়ুন:
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আগের সরকার শুধুমাত্র ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। বাস্তবে কোনও প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি বলেই আজ এই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
তবে সমস্ত বাধা সত্ত্বেও তাঁরা কুড়মালি ভাষাতেই শপথ নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, মঙ্গল ও বুধবার নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথ গ্রহণের কর্মসূচি রয়েছে। জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রামের বিনপুর কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক নরেন হাঁসদা একসময় সাঁওতালি ভাষার অনুবাদক না থাকায় শপথ নেননি। পরে বিধানসভার তরফে সাঁওতালি অনুবাদক নিয়োগ করা হলে তিনি নিজের ভাষায় শপথ গ্রহণ করেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি বিধায়ক ছিলেন। সেই ইতিহাস তুলে ধরেই এবার কুড়মালি ভাষার দাবিকে আরও জোরালো করার চেষ্টা চলছে।