পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনে ধৃত তিন জনকে জিজ্ঞাদাবাদ করতে চাইছে পুলিশ। সোমবার গ্রেফতারের পরেই তাঁদের বারাসত আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাদের ১৩ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। 

ধৃতদের মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে উত্তরপ্রদেশ থেকে এবং বাকি দুজনকে বিহার থেকে গ্রেফতার করেছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে আরও অনেকে যুক্ত আছে। তারা অন্য কোনও রাজ্যে পালিয়ে যেতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তরন্তকারীরা। তবে এই খুনের জড়িত মাথা এখনও অধরা। তার খোঁজও চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্তাকারীদের অনুমান, যেভাবে চন্দ্রনাথকে খুন করা হয়েছে তাতে মনে করা হচ্ছে খুনের প্রায় দেড় দু মাস আগে থেকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে এবিষয়ে এবার ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে নিশ্চিত হতে চাইছে পুলিশ। সেই সঙ্গে আরও কারা জড়িত? কার নির্দেশে এই খুনের ঘটনা? কীভাবে পুরো অপারেশন চালানো হয়েছেইল? সেই সমস্ত পুরো বিষয়ে তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন। 

ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে এবিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে দেবে পুলিশ। জানা গিয়েছে, খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত চারচাকা গাড়িটি ঝাড়খণ্ড থেকে আনা হয়েছিল।

সেই গাড়ির সঙ্গে যুক্ত একটি অনলাইন আর্থিক লেনদেনের তথ্যও হাতে আসে তদন্তকারীদের। বালি টোলপ্লাজায় ওই গাড়ির টোল বাবদ অর্থ অনলাইনে প্রদান করা হয়েছিল। সেই লেনদেনের সুত্র ধরেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে পুলিশ।  টোলপ্লাজার সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই ফুটেজ গুরুত্ব সহকারে পরীক্ষা করছেন তদন্তকারীরা।  আগেই এই ঘটনার তদন্তে রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে সিট গঠন করা হয়েছে। ওই দলে এসটিএফ এবং রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি-র আধিকারিকরা রয়েছেন। 

উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেওয়ার আগে গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথ রথের উপর হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা।

জানা গেছে, তাঁর গাড়ির সামনে আচমকা আরেকটি গাড়ি এসে পথ আটকে দেয়। গাড়ি থামতেই দু দিক থেকে মোটরবাইকে করে আসে হামলাকারীরা। এরপর খুব কাছ থেকে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই চন্দ্রনাথের মৃত্যু হয়। তাঁর গাড়িচালক গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঘটনার পর রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়। বিজেপি এই ঘটনার জন্য সরাসরি তৃণমূল নেতৃত্বকে দায়ী করেছে।শুভেদু অভিযোগ তুলেছিলেন, তিনি ভবানীপুরে না জিতলে এই হামলা হত না। অন্যদিকে তৃণমূল এই হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে। তাদের পক্ষ থেকে আদালতের তত্ত্বাবধানে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের দাবিও জানানো হয়েছে।