পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ হাঙ্গেরির রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। শনিবার হাঙ্গেরির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিলেন পিটার মাজিয়ার। এর মাধ্যমে প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা ভিক্টর অরবানের শাসনের অবসান ঘটল। এরফলে হাঙ্গেরির রাজনৈতিক ইতিহাসে শুরু হলো নতুন অধ্যায়।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সংস্থার সুত্রে জানা যাচ্ছে, পিটার মাজিয়ার ইউরোপপন্থী ও সংস্কারপন্থী নেতা হিসেবেই পরিচিত।

অন্যদিকে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার প্রতি ঘনিষ্ঠ অবস্থানের জন্য আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিত ছিলেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক ছিল বলেই জানা যায়। তবে শুধু পুতিন নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও তাঁর রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা ছিল। 

শনিবার শপথ গ্রহণের আগে মাজিয়ার দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা দিয়েছিলেন রাজধানী বুদাপেস্টে সমবেত হওয়ার জন্য। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, তাঁর নতুন সরকার হাঙ্গেরির নতুন ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা হবে।

এদিন তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার মানুষ দেশের সংসদ ভবনের বাইরে জড়ো হন। তাঁরা নতুন নেতৃত্বকে স্বাগত জানান। সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাজিয়ার বলেন, বিশ্বের প্রতিটি স্বাধীনতাপ্রেমী মানুষ একটু হলেও হাঙ্গেরীয় হতে চায়। তাঁর কথায়, হাঙ্গেরির মানুষ গোটা বিশ্বকে শিখিয়েছে স্বৈরশাসককে পরাজিত করতে পারে মানুষই। 

শুধু তাই নয়, নতুন সরকার প্রসং বলতে গিয়ে মাজিয়ার জানান,  হাঙ্গেরির জনগণ তাঁর দলকে দেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়  শুরু করার জন্য আস্থা রেখেছে।

তাই তাদের আস্থায় ভর করে শুধু সরকার পরিবর্তন হয়নি, গোটা শাসনব্যবস্থাকেই বদলে দেওয়া হবে।  তাঁর কথায়, পরিবর্তনের লড়াই কখনও সহজ হয় না। এই পথ ছিল দীর্ঘ, কঠিন এবং অনেক বাধাযুক্ত। তবে শেষ পর্যন্ত জনগণই জয়ী হয়। তাঁর দাবি,  এই সময়ে দেশটি ইউরোপীয় অঞ্চলের অন্যতম বিতর্কিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল।

গত এপ্রিলের সাধারণ নির্বাচনে এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অরবানের জাতীয়তাবাদী দল ফিদেজ বড় ধাক্কা খায় এবং পিটার মাজিয়ারের মধ্য ডানপন্থী তিসজা পার্টি বিপুল সমর্থন নিয়ে জয়লাভ করে। ২০১০ সাল থেকে টানা ক্ষমতায় থাকা অরবানের রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে হাঙ্গেরির মানুষ এবার নতুন নেতৃত্বের উপর আস্থা রাখে।