পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: গত পাঁচ দিনের টানাপোড়েন, রাজ্যপালের সঙ্গে চার-চারটি বৈঠক এবং সম্ভাব্য শরিকদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পর অবশেষে কাটল তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক জট। অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম’ (টিভিকে) এবার সরাসরি শাসনের ব্যাটন হাতে নিতে চলেছে। আগামী ১০ মে, রবিবার সকাল ১০টায় চেন্নাইয়ের নেহেরু স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বিজয়। সোমবার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, গত ছয় দশকের দুই দ্রাবিড় শক্তি ডিএমকে এবং এআইডিএমকে-র আধিপত্যকে চুরমার করে বিজয় ১০৮টি আসনে জয়ী হয়েছেন। কিন্তু ২৩৪ আসনের বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার (১১৮) থেকে ১০ আসন দূরে থমকে যাওয়ায় সরকার গঠন নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।
আরও পড়ুন:
সূত্রের খবর, বুধবার ৫ জন বিধায়ক নিয়ে কংগ্রেস সমর্থন জানালে বিজয় রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকরের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানান। কিন্তু রাজ্যপাল আরও সমর্থনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ডিএমকে জোটের শরিক বাম দলগুলো (CPI ও CPIM) ৪ জন বিধায়ক নিয়ে বিজয়ের পাশে দাঁড়ায়। বিজয় দুটি আসন থেকে জয়ী হওয়ায় তাঁর ব্যক্তিগত আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৭। ফলে সব মিলিয়ে সংখ্যাটি পৌঁছায় ১১৬-তে—ম্যাজিক ফিগারের থেকে মাত্র ২ কম।
শনিবার বিকেলেও ডিএমকে-র অন্য শরিক ভিসিকে-কে নিয়ে দোলাচল ছিল। কিন্তু সন্ধ্যায় থল থিরুমাভালাভানের নেতৃত্বাধীন ভিসিকে ২ জন বিধায়কের নিঃশর্ত সমর্থন ঘোষণা করতেই ১১৮-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেন বিজয়। এরপরই আইইউএমএল-এর ২ জন বিধায়ক সমর্থন দেওয়ায় বিজয়ের জোটের শক্তি বেড়ে দাঁড়ায় ১২০।আরও পড়ুন:
প্রয়োজনীয় সমর্থন ও শরিক দলগুলোর সমর্থনপত্র হাতে পাওয়ার পর শনিবার সন্ধ্যায় পুনরায় রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন বিজয়। সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে বিজয় সরকার গড়তে সক্ষম—এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরই রাজভবন থেকে শপথ গ্রহণের সবুজ সংকেত দেওয়া হয়। রাজভবনের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ১০ মে সকাল ১০টায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে একটি শর্ত দেওয়া হয়েছে—আগামী বুধবারের মধ্যে বিজয়কে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে হবে।