পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ বিয়ের পর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নিঃসন্তান ছিলেন। মা না হওয়ার যন্ত্রণা প্রতিটা মুহূর্তেই তাঁকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল। অনেক জায়গায় প্রার্থনা করে বা ডাক্তার দেখিয়েও সন্তানের মুখ দেখার সৌভাগ্য হয়নি। অবশেষে ১২ বছর পর সন্তানের জন্ম দিলেন মহিলা। তাও আবার একটি সন্তান নয়, একসঙ্গে মহিলার কোল আলো করে জন্ম নিল ৫ সন্তান। যা দেখে হতবাক হয়েছেন চিকিৎসকরা। একে বিরল ঘটনা বলেই মনে করছেন তাঁরা। একসঙ্গে ৫ সন্তানের আশীর্বাদ পেয়ে অতন্ত আনন্দিত মহিলা এবং তাঁর স্বামী।
এমনই ঘটনার সাক্ষী থাকল ইথিওপিয়ার হারারি আঞ্চলিক রাজ্য। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এই ধরনরে ঘটনার সম্ভাবনা থাকে ৫.৫ কোটি মানুষের মধ্যে একজনের ক্ষেত্রে।আরও পড়ুন:
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম সুত্রে জানা গিয়েছে, জানা গিয়েছে ওই মহিলার নাম বেদ্রিয়া আদেম। তিনি বলেন, তিনি ও তার স্বামী একসঙ্গে পাঁচটি সন্তানের আশীর্বাদ পেয়ে "অত্যন্ত আনন্দিত"। হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, ৩৫ বছর বয়সী ওই মহিলা হিউট ফানা স্পেশালাইজড হাসপাতালে চার পুত্র ও এক কন্যা জন্ম দিয়েছেন। জন্ম নেওয়ায় ৫ সন্তানই সুস্থ আছে। বেদ্রিয়ার কথায়, "আমি আমার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না" ।
আরও পড়ুন:
প্রথমবারের মতো বেদ্রিয়া জানান, তাঁর স্বামীর প্রথম পক্ষের স্ত্রীর এক সন্তান রয়েছে।
ওই সন্তান তাঁদের সঙ্গেই থাকে। তবে নিজের সন্তান না হওয়ার কষ্ট প্রতিটি মুহূর্তে তিনি অনুভব করেছেন। মানসিকভাবে তিনি ভেঙে পড়েছিলেন। পাড়া পরশিদের কাছে এনিয়ে তাঁকে প্রায়ই কোথা শুনতে হত। যদিও তাঁর স্বামী সবসময় তাঁর পাশে ছিলেন। বেদ্রিয়া বলেন, "আমি ১২টি বছর যন্ত্রণায় ভুগেছি, লুকিয়ে বেরিয়েছি এবং সন্তানের জন্য অবিরাম প্রার্থনা করেছি। আল্লার কাছে আমি একটি সন্তান চেয়েছি, আমাকে তিনি ৫ টি সুন্তান্ন দিয়েছেন। অবশেষে আল্লা আমার কথা শুনেছেন।" যদিও এই ৫ সন্তানের ভরণপোষণ তিনি কীভাবে করবেন সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন, তবে তিনি বিশ্বাস করেন, তাঁর পরিবার ও সরকারের সহায়তায় আল্লাই এর ব্যবস্থা করবেন। তিনি ৫ সন্তানের নাম রেখেছেন নাইফ, আম্মার, মুনজির, নাজিরা ও আনসার।আরও পড়ুন:
হাসপাতালের চিকিৎসক নূর আব্দুল্লাহি জানান, মা ও শিশুরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শিশুগুলোর ওজন ছিল ১.৩ থেকে ১.৪ কেজি। তিনি জানান, যেসব নবজাতকের ওজন এক কিলোগ্রামের বেশি, তাদের বেঁচে থাকার এবং সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার সম্ভাবনা বেশি থাকে।চিকিৎসক আরও জানান, বেদ্রিয়া আইভিএফ পদ্ধতি ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ করেছিলেন। আর স্বভাবিকভাবে একসঙ্গে পাঁচটি সন্তান গর্ভে ধারণ করার সম্ভাবনা প্রায় ৫.৫ কোটি মানুষের মধ্যে একজনের ক্ষেত্রে। বেদ্রিয়া গর্ভাবস্থায় নিয়মিতভাবে চিকিতসা পরিশেবা নিয়েছিলেন।