পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী,  চলতি মাসের প্রায় ২০ তারিখ নাগাদ আন্দামান সাগরে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, সবকিছু অনুকূলে থাকলে নির্ধারিত সময়েই মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতি শুরু হবে, যা বর্ষা আগমনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়েই দেশে বর্ষা প্রবেশ করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। 

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ১৪ থেকে ২০ মে-র মধ্যে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকা, আন্দামান সাগর এবং আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কিছু অংশে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা দেখা দিতে পারে।

এই সময় দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের বায়ুপ্রবাহ ক্রমশ শক্তিশালী হবে এবং বঙ্গোপসাগর থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতের দিকে এর প্রভাব বাড়বে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের দক্ষিণ প্রান্তে। কেরল, তামিলনাড়ু-সহ দক্ষিণ উপদ্বীপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি কয়েকটি জায়গায় ভারী এমনকি অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। ইতিমধ্যেই দক্ষিণ ভারতের একাধিক এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি শুরু হয়েছে।
এটি মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতির পক্ষে ইতিবাচক লক্ষণ বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

এদিকে, প্রশান্ত মহাসাগরে গড়ে ওঠা এল নিনো পরিস্থিতির প্রভাব এ বছরের বর্ষার উপর পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই কারণেই আগে থেকেই আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এ বছর দেশে মোট বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় তা প্রায় ৯২ শতাংশের কাছাকাছি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

সাধারণ নিয়মে মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে প্রথম আন্দামান সাগর ও আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটে। এরপর ধাপে ধাপে তা দেশের মূল ভূখণ্ডের দিকে অগ্রসর হয়। কেরলে মৌসুমি বায়ুর পৌঁছনোকেই ভারতে বর্ষার আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে ধরা হয়, যার স্বাভাবিক সময় ১ জুন। উল্লেখ্য,  জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিস্তৃত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সময়কালই দেশের প্রধান বর্ষার সময় বলে ধরা হয়। এই চার মাসে দেশের মোট বার্ষিক বৃষ্টিপাতের সিংহভাগ হয়,  যা কৃষি, জলসম্পদ এবং সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত এই সময়ে দেশে গড়ে প্রায় ৮৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।