পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ এবারের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি ঋতুতে ভারতে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা বাড়ছে। দক্ষিণ এশিয়ার আবহাওয়াবিদদের যৌথ পূর্বাভাসে এমনই ইঙ্গিত মিলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরে দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো পরিস্থিতির প্রভাবেই মৌসুমি বায়ু দুর্বল হতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের বর্ষায়।

সম্প্রতি মালদ্বীপে সাউথ এশিয়ান ক্লাইমেট আউটলুক ফোরাম (সাসকফ)-এর একটি বৈঠক হয়।

সেই বৈঠকে এই পূর্বাভাস প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ার বিস্তীর্ণ অংশে বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকার সম্ভাবনাই বেশি। ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান এবং শ্রীলঙ্কার কিছু অংশেও বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তরও আগেই ইঙ্গিত দিয়েছে, এ বছরের মৌসুমি বৃষ্টিপাত দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় কিছুটা কম হতে পারে।
এরফলে কৃষি, জলসংরক্ষণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

এল নিনো কি? 

আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এল নিনো হল প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়ার একটি প্রক্রিয়া। এই তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ছন্দে বড়সড় প্রভাব ফেলে।

ভারতের ক্ষেত্রে বহুবার দেখা গিয়েছে, এল নিনোর সময় মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বৃষ্টিপাত কমে যায়।

তবে আবহাওয়াবিদরা এটাও স্পষ্ট করেছেন যে শুধু এল নিনোই বর্ষা নির্ধারণ করে না। ভারত মহাসাগরের তাপমাত্রার ওঠানামা, স্থলভাগের উষ্ণতা, সমুদ্রের অন্যান্য জলবায়ুগত পরিবর্তনও মৌসুমী বৃষ্টির উপর প্রভাব ফেলে। এর মধ্যে ভারত মহাসাগরীয় ডাইপোলের ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হলে তা কিছুটা হলেও বৃষ্টিপাতের পক্ষে সহায়ক হতে পারে। তবুও সামগ্রিক পূর্বাভাস বলছে, এ বছর এল নিনোর প্রভাবই বেশি শক্তিশালী হতে পারে। ফলে দেশের বহু অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এখন নজর থাকবে আগামী কয়েক সপ্তাহের আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতির দিকে, কারণ সেটাই ঠিক করবে এবারের বর্ষা ঠিক কতটা প্রভাবিত হবে।