পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ ছাব্বিশের নির্বাচনে বঙ্গে গেরুয়া ঝড়ে ধরাশয়ী হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে পরাজিত হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সেই পরাজয় মেনে নিতে পারছেন না তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর অভিযোগ, গণনায় কারচুপি হয়েছে, জোর করে তৃণমূলকে হারানো হয়েছে। এমনকি সাখাওয়াত মেমরিয়াল স্কুলে গণনা কেন্দ্রে তাঁকে ধাক্কাধাক্কি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন। এবার মমতার সুরেই ওই গণনা কেন্দ্রে কারচুপির বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হলেন তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিমের কন্যা প্রিয়দর্শিনী হাকিম।
আরও পড়ুন:
প্রিয়দর্শিনী সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গণনা কেন্দ্রে মমতার কাউন্টিং এজেন্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
গণনাকেন্দ্রে উপস্থিত থেকে যা দেখেছেন, তারই বিস্তারিত বিবরণ তিনি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, প্রথম কয়েক দফা পর্যন্ত ভোটগণনা স্বাভাবিক ও স্বচ্ছভাবেই চলছিল। তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কয়েক হাজার ভোটে এগিয়েও ছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি আচমকাই বদলে যায় মাঝপথে। তাঁর অভিযোগ, এক পর্যায়ে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী গণনাকেন্দ্রে প্রবেশ করে তৃণমূলের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। দাবি করেন, রাজ্যে বিজেপি ইতিমধ্যেই বিপুল আসনে এগিয়ে রয়েছে এবং আর কাউকে সেখানে থাকার প্রয়োজন নেই। তৃণমূল প্রতিনিধিরা আপত্তি জানালে তাঁদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ।আরও পড়ুন:
প্রিয়দর্শিনীর কথায়, প্রথমে তাঁকে সরে যেতে বলা হলেও তিনি প্রতিবাদ জানান। পরে তাঁকে শর্ত দেওয়া হয়, গণনায় যা সংখ্যা জানানো হবে, সেটাই লিখে নিতে হবে। তিনি তা মানতে অস্বীকার করলে তাঁকেও জোর করে বাইরে বের করে দেওয়া হয়। তাঁর প্রবেশপত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি জানান, গণনাকেন্দ্রে তৃণমূলের একাধিক প্রতিনিধিকে হেনস্তা করা হয়। তাঁকেও ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয় এবং চুল ধরে টানাহেঁচড়া করা হয়েছে বলে দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনী উপস্থিত থাকলেও তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।
আরও পড়ুন:
প্রিয়দর্শিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, পরে খবর পেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে গণনাকেন্দ্রে পৌঁছন। কিন্তু তাঁর উপস্থিতিতেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। অভিযোগ, সেই সময় হঠাৎ করেই ইভিএম অন্যত্র সরানো হয়। তার প্রতিবাদ করতে গেলে তৃণমূল-সহ বিরোধী দলের সমস্ত প্রতিনিধিকে বাইরে আটকে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, ১৬ রাউন্ডের পর আর স্বচ্ছভাবে ভোটগণনা হয়নি। গণনাকক্ষে তখন শুধু বিজেপির প্রতিনিধি, নির্বাচন কমিশনের আধিকারিক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরাই উপস্থিত ছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস ও অন্যান্য দলের এজেন্টদের বাইরে বের করে দেওয়া হয়। এরপর একতরফাভাবে ফল ঘোষণা করা হয় বলেই অভিযোগ তুলেছেন প্রিয়দর্শিনী। তাঁর অভিযোগ, এটি বিজেপির কোনও স্বাভাবিক জয় নয়।