পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের গণনাকে ঘিরে সোমবার তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ভোটগণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়ে গণনাকেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন আইএসএফ প্রার্থী আরাবুল ইসলাম এবং বিজেপি প্রার্থী অসীম সানপুই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় বাহিনী হস্তক্ষেপ করে। অভিযোগ, সেই সময় লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে এবং তাতে দুই পক্ষের কয়েকজন কর্মী আহত হন। বিজেপির অন্তত তিন কর্মী চোট পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগের তির সরাসরি গণনাপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত প্রশাসনিক কর্তাদের দিকে। আরাবুল ইসলাম ও বিজেপি প্রার্থীর দাবি, বিডিও-সহ কয়েকজন আধিকারিক পরিকল্পিতভাবে ভোটগণনায় অনিয়ম করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, কিছু ইভিএমে কারচুপি করা হয়েছে এবং গণনার সময় ভোটের হিসাব বদলে দেওয়া হয়েছে।ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রে এবারের লড়াই ছিল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর আইএসএফের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরাবুল ইসলাম।

তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন মহম্মদ বাহারুল ইসলাম। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দশ দফা গণনা শেষে তৃণমূল প্রার্থী প্রায় ষোল হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন আরাবুল ইসলাম এবং তৃতীয় স্থানে বিজেপির অসীম সানপুই।

এই ফল প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিরোধী দুই প্রার্থী। তাঁদের দাবি, কয়েকটি বুথে তাঁদের পক্ষ থেকে কোনও গণনাপ্রতিনিধি উপস্থিত না থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট নথিতে তাঁদের দলের প্রতিনিধির স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে।

এই ঘটনাকে গুরুতর অনিয়ম বলে দাবি করে অবিলম্বে ওই কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। আরাবুল ইসলামের অভিযোগ, প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাঁদের উপর শারীরিকভাবে হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষার স্বার্থে গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। একই সুরে বিজেপি প্রার্থীও দাবি করেছেন, পুরো গণনাপ্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করে নতুন করে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে।

গণনাকেন্দ্রের বাইরে এখনও থমথমে পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তাবাহিনী। নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।