পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ ভোটগণনার আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। তার আগেই রবিবার সন্ধ্যায় দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাটের বাড়ি থেকেই সন্ধ্যা সাড়ে ছ'টা নাগাদ এই বৈঠক হওয়ার কথা। বিশেষভাবে নজরে রাখা হয়েছে ভবানীপুর কেন্দ্রকে, যেখানে এবার সরাসরি নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে।

দলীয় সূত্রে খবর, ভবানীপুরে ভোটগণনা ঘিরে কীভাবে পরিস্থিতি সামলাতে হবে, কোন বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে এবং গণনাকেন্দ্রে এজেন্টদের ভূমিকা কী হবে  সেই সব বিষয় নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করবেন তৃণমূল নেত্রী। বৈঠকে ভবানীপুর এলাকার আটজন কাউন্সিলর,  বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতিরা এবং মুখ্য নির্বাচনী এজেন্টদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

পাশাপাশি দলের আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাও এই বৈঠকে যোগ দেবেন বলে জানা গিয়েছে।

শুধু ভবানীপুর নয়,  রাজ্যের অন্যান্য কেন্দ্রের প্রার্থীদের সঙ্গেও ভারচুয়াল মাধ্যমে কথা বলতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গণনার দিন কীভাবে দলীয় প্রতিনিধিদের সক্রিয় থাকতে হবে, সে ব্যাপারেও নির্দেশ দিতে পারেন তিনি। রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের নজর এখন মূলত ভবানীপুর কেন্দ্রেই। কারণ,  এই কেন্দ্র থেকেই এবার মুখোমুখি হয়েছেন রাজ্যের দুই প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

ফলে এই কেন্দ্রের ফলাফলকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে।

তৃণমূলের অন্দরমহলের দাবি,  অতীতের অভিজ্ঞতা থেকেই এবার অনেক বেশি সতর্ক থাকতে চাইছেন মমতা। বিশেষ করে একুশ সালের নন্দীগ্রামের ভোটগণনার অভিজ্ঞতা এখনও দলীয় নেতৃত্বের মনে তাজা। সেই নির্বাচনে প্রথম দিকে মমতার জয়ের খবর সামনে এলেও পরে পরিস্থিতি বদলে যায়। শেষ পর্যন্ত জয়ী ঘোষণা করা হয় শুভেন্দু অধিকারীকেই। সেই ফলাফল ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

গণনায় অনিয়ম এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে কেন্দ্র করে অভিযোগও উঠেছিল, যা পরে আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই এবার আগেভাগে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতে চাইছে তৃণমূল নেতৃত্ব। শনিবারের ভারচুয়াল বৈঠকেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন, গণনা পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও এজেন্ট যেন কেন্দ্র ছেড়ে না যান। রাত গভীর হলেও গণনাকেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কখন কী পদক্ষেপ করতে হবে, এমনকি দীর্ঘ সময় কেন্দ্রে থাকার জন্য কী ধরনের প্রস্তুতি নিতে হবে, তা নিয়েও বিস্তারিত নির্দেশ দিয়েছেন দলনেত্রী। এ বার ভবানীপুরকে ঘিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অতিরিক্ত কী বার্তা দেন, সেই দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।