পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্বস্তি ক্রমশ বাড়ছে। তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষও বাড়ছে। সম্প্রতি তৃণমূলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য ডিম ছুড়ে হামলা চালানো হয়েছিল। এবার তৃণমূল ভবনেও ডিম ছোড়ার আশঙ্কা করছে তৃণমূল নেতৃত্ব। কাউন্সলিরদের ওপর জনরোষ আছড়ে পড়ার আশঙ্কায় এবার তাঁদের সঙ্গে বৈঠক বাতিল করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বব্দ্যোপাধায়। 

জানা গিয়েছে, আজ রবিবার বিকেলে বাইপাস সংলগ্ন তৃণমূল ভবনে কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।

তা শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠক ঘিরে বিক্ষোভ কিংবা ডিম ছোড়ার মতো অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হওয়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, নির্ধারিত বৈঠকে বহু কাউন্সিলর উপস্থিত হতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, বৈঠকে যোগ দিতে গেলে স্থানীয় মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হতে পারে। সেই বার্তা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছেও পৌঁছায়। এরপর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অনেকেই মনে করছেন,  এই মুহূর্তে কোনও বিতর্কিত ঘটনা সামনে এলে তা দলের ভাবমূর্তির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিতে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি যাওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ বা ডিম নিক্ষেপের মতো ঘটনা প্রকাশ্যে এলে তা অস্বস্তি বাড়াতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে বৈঠক বাতিল হলেও নতুন মেয়র নির্বাচনের প্রস্তুতি থেমে নেই। দলীয় সূত্রের খবর, প্রকাশ্য বৈঠকের পরিবর্তে অন্য কোনও নির্দিষ্ট স্থানে কাউন্সিলরদের ডেকে প্রয়োজনীয় সমর্থনপত্র ও স্বাক্ষর সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নতুন মেয়র নির্বাচনের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতেই এই উদ্যোগ বলে জানা গিয়েছে।

উল্লেখ্য, ফিরহাদ হাকিম মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে না কেন, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে রাজ্য সরকার পুরসভার কাছে নোটিস পাঠিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই জবাব দিতে হবে।এদিকে নতুন মেয়র কে হবেন, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে। প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নামও আলোচনায় উঠে এসেছে। এই আবহেই কাউন্সিলরদের বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সেই বৈঠক স্থগিত করা হল।