পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: আগামীকাল ৮ জুন, সোমবার ইন্ডিয়া জোটের মেগা বৈঠক রয়েছে। তাতে যোগ দেওয়ার কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মতোই বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লির উদ্দেশ্যে উড়ে গেলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্যদোপাধ্যায়। বৈঠকে কংগ্রেস ছাড়াও থাকছে ইন্ডিয়া জোটের বাকি শরিকগুলি। যদিও ডিএমকে বৈঠকে যোগ দেবে না বলে আগেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। তবে নির্বাচনের ফলাফলের পরেই তৃণমূল যেভাবে ভেঙে চুরমার হয়েছে সেই অবস্থায় দাঁড়িয়ে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক থেকে মমতা কি বার্তা দেন, সেই দিকেই তাকে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।

 

২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে হারের পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করেছিলেন এবার তিনি ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গে এক হয়ে লড়বেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করবেন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে কথা হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন। সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবও মমতার সঙ্গে দেখা করেছেন। তবে ভোট পরবর্তী সময়ে রাজ্যে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে যেভাবে জনরোষ আছড়ে পড়ছে এবং দল যেভাবে ভেঙে চুরমার হয়েছে তাতে স্বাভাবিকভাবেই বড় অস্বস্তিতে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের মধ্যে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন একাংশ। এই অবস্থায় তৃণমূলের মাটি শক্ত করতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠককে ফলপ্রসূ করতে তৎপর হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে তৃণমূলের উত্থান এবং জাতীয় রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখার জন্য তৃণমূলের সামনে এখন একটাই রাস্তা, সেটা হল বিজেপিকে হারানো। 

সংসদে এখন তৃণমূলের দ্বিতীয় বৃহত্তর দল। কিন্তু আগামী লোকসভা নির্বাচনে সেই ক্ষমতা কতটা ধরে রাখতে পারবে তৃণমূল, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ বর্তমান পরিস্থিতি একেবারে তৃণমূলের অনুকূলে নেই। ফলে একা লড়াই করা যে সম্ভব নয় সে কথা ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই আগামীকালের বৈঠকে লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের দেওয়া একের পর এক তত্ত্বকেই তৃণমূল সমর্থন করতে চলেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

আগামীকালের বৈঠকে জাতীয় রাজনীতি তৃণমূল বা বিরোধী জোটের ভূমিকা কি হবে? তানিয়ে কৌতূহল বাড়ছে। এদিকে, ইন্ডিয়া জোটের অন্দরে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। কারণ সিপিএমের অভিযোগ কেরলের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব বিশেষ করে রাহুল গান্ধী এবং অন্যান্য নেতারা বারবার অভিযোগ করেন যে ইউডিএফ-এর সঙ্গে বিজেপির সমঝোতা রয়েছে। তাদের মতে যেখানে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ইন্ডিয়া জোট গড়ে উঠেছিল সেখানে এই ধরনের অভিযোগ জোটের ভিত দুর্বল করে দিচ্ছে। এ নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিককার্জুন খাড়গেকে চিঠি লিখেছেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। এর ফলে বিরোধী জোটে কিছুটা ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। এমন সময় বিরোধী জোটের মধ্যে সমন্বয় রাখতে মমতা কি ভূমিকা নেন সেটাই এখন দেখার।