পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির আপত্তির প্রেক্ষিতে দিঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে ধাম শব্দটি সরিয়ে ফেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ধাম শব্দটি সনাতন সংস্কৃতির রীতিনীতির সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সেই কারণেই এখন থেকে দিঘার এই মন্দির কমপ্লেক্সের নতুন নামকরণ করা হয়েছে শ্রী শ্রী জগন্নাথ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
আরও পড়ুন:
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের আদলে দিঘায় এই মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে সূচনালগ্ন থেকেই দিঘার জগন্নাথ মন্দিরকে কেন ধাম হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে, তা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নানা মহলে বিতর্ক চলছিল।
হিন্দু শাস্ত্রের অভিধান অনুযায়ী, ধাম বলতে সাধারণত কোনো পবিত্র তীর্থস্থান বা দেবতার আবাসস্থলকে বোঝায়। সাধারণ মানুষের আবাস সাধারণ হতে পারে, কিন্তু তীর্থস্থান হওয়ার প্রধান শর্ত হলো সেখানে কোনো দেবতা বা মহাপুরুষের লীলা কিংবা অধিষ্ঠান থাকা জরুরি। এই যুক্তিতে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরকে কোনোভাবেই ধাম আখ্যা দেওয়া যায় না বলে অনেকেই মত প্রকাশ করেছিলেন।আরও পড়ুন:
বিষয়টি নিয়ে ওড়িশা সরকার তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে পুরীর বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র সরাসরি রাজ্য সরকারের দরবারে এসে এই দাবি জানিয়েছিলেন।
সেই প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী পুরীর সাংসদের মাধ্যমে একটি বিশেষ চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সকলেই চান সেখানে নিষ্ঠার সঙ্গে পূজা সম্পন্ন হোক, কিন্তু ধাম শব্দটি সনাতন সংস্কৃতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। তাই দিঘার ক্যাম্পাস থেকে ধাম শব্দটি আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং নতুন নামকরণের ঘোষণা করা হয়েছে।আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রী আরও নিশ্চিত করেছেন যে, দিঘার মন্দিরে পূজা ও অর্চনার কাজ ভারতীয় সংস্কৃতি এবং শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনেই পরিচালিত হবে।
মন্দিরের পুরো এলাকা জুড়ে সাত্ত্বিক পরিবেশ বজায় রাখা হবে এবং সেই অনুযায়ী প্রসাদ বিতরণ করা হবে। পরিচালন ট্রাস্ট কমিটির বিস্তারিত তথ্য খুব শীঘ্রই জানিয়ে দেওয়া হবে এবং তা মন্দিরের ওয়েবসাইটেও আপলোড করা হবে। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই মায়াপুরের ইস্কন মন্দিরে গিয়ে রাধারমণের সঙ্গে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের নাম পরিবর্তন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। যেহেতু দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের পূজার যাবতীয় দায়িত্ব ইস্কন কর্তৃপক্ষের হাতে রয়েছে, তাই সেখানেই তিনি ধাম শব্দটি সরিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। অবশেষে সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পদক্ষেপ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।