পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের তদন্তের আরও কিছুটা অগ্রগতি হল। এবার এই হত্যাকাণ্ডে আত্মসমর্পণ করলেন উত্তর প্রদেশের এক দাগী দুষ্কৃতী ও কুখ্যাত গ্যাংস্টার। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাজ্যের বালিয়ার একটি আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং ওরফে মনু নামে ওই গ্যাংস্টার। চন্দ্ররাথ হত্যায় অভিযুক্ত থাকার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ১২টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করলে আরও অনেক তথ্য পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মনুর বিরুদ্ধে চন্দ্রনাথ হত্যার খুনে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলেও তিনি মূলত আত্মসমর্পন করেছেন একটি পুরনো মামলায়। বান্সডিহ রোড থানার এসএইচও বংশ বাহাদুর সিং জানান, চন্দ্রনাথ রথ হত্যা মামলা ছাড়াও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আরও ১২টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এরমধ্যে ২০২৩ সালে বান্সডিহ রোড থানায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্যাংস্টার আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলাতেই আত্মসমর্পণ করেন আদালতে। বিচারক তাঁকে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
তাঁকে পাঠানো হয়েছে মৌ-এর জেলা সংশোধনাগারে।আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মনুর একটি ভিডিও এবং একটি ফেসবুক পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। সেখানে তিনি চন্দ্রনাথ হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। এছাড়াও, তিনি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে অভিযোগ করেন যে, তাঁর গ্রামের বাসিন্দা মুকেশ কুমার সিং ও সন্দীপ সিং সহ তিনজন চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ডের মূল মাথা ছিলেন। তাঁরাই চন্দ্রনাথকে খুনের পরিকল্পনা করেছিলেন। এছাড়াও, নিশান্ত সিং নামে আরেকজনের জড়িত থাকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
এদিনে আদালতে মনুর আইনজীবী দাবি করেন, সিবিআইয়ের আধিকারিকরা তাঁকে আত্মসমর্পণের জন্য চাপ দিচ্ছেন। সম্প্রতি তদন্তের জন্য তার বাসভবন থেকে সিসিটিভি ফুটেজও বাজেয়াপ্ত করেছে সিবিআই। এদিকে, অভিযুক্তের স্ত্রী মহিমা সিং দাবি করেছেন যে তাঁর স্বামী নির্দোষ। তবে সিবিআই তদন্তের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন।
তিনি দাবি করেছেন, তাঁর স্বামীকে চন্দ্রনাথ হত্যা মামলায় মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, সিবিআই ও পুলিশ নিয়মিত তাদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।আরও পড়ুন:
উল্লেখ্যে, বারাণসী ইউনিটের এসটিএফের একটি দল গত ১৯ মে বালিয়ায় তল্লাশি অভিযান চালায়। সেখান থেকেই এই মামলায় অভিযুক্ত নবীন সিংকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ। জিজ্ঞাসাবাদে নবীন এসটিএফকে জানান, বালিয়ার দুষ্কৃতী জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং ওরফে মানু গত ৭ মে রাজ কুমার সিং এবং গোলু সিং নামে আরও দুই সহযোগী নিয়ে এসে তার সঙ্গে দেখা করে। এরপর পরে তাকে আগ্নেয়াস্ত্র ভর্তি একটি ব্যাগ দেয়। নবীন পরে এসটিএফের টিমকে একটি ন্যাশনাল হাইওয়ের পাশে অবস্থিত একটি গাড়ির শোরুমে নিয়ে যান। সেখান থেকে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়। তারপর থেকেই তদন্তের আওতায় চলে আসে জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিংয়ের ভূমিকা।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেওয়ার আগে গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথ রথের উপর হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। জানা গেছে, তাঁর গাড়ির সামনে আচমকা আরেকটি গাড়ি এসে পথ আটকে দেয়। গাড়ি থামতেই দু দিক থেকে মোটরবাইকে করে আসে হামলাকারীরা। এরপর খুব কাছ থেকে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই চন্দ্রনাথের মৃত্যু হয়। তাঁর গাড়িচালক গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আরও পড়ুন:
ঘটনার পর রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়। বিজেপি এই ঘটনার জন্য সরাসরি তৃণমূল নেতৃত্বকে দায়ী করেছে। শুভেদু অভিযোগ তুলেছিলেন, তিনি ভবানীপুরে না জিতলে এই হামলা হত না। অন্যদিকে তৃণমূল এই হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে।