পুবের কল ওয়েব ডেস্কঃ কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শপথ গ্রহণের পরেই তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে বাংলাকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের অধীনে আনা হবে। সেইমতোই আনুষ্ঠানিকভাবে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে যোগ দিল বাংলা। দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে এ বিষয়ে মউ স্বাক্ষর করেন। সেখানে মন্ত্রী এবং সরকারি আধিকারিকরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসীরা। সেখান থেকেই মুখ্যমন্ত্রী একথা ঘোষণা করেন।

 

মউ সাক্ষর করতে এসে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, সারা দেশের এনপ্যানেলড হাসপাতালে চিকিৎসার সুবিধা পাওয়া যাবে আয়ুষ্মান ভারত কার্ডের মাধ্যমে। এর ফলে বিশেষভাবে উপকৃত হবেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। কারণ তাদের কাজের জন্য ভিন রাজ্যে থাকতে হয়। আর এই কার্ড থাকলে তারা যেকোন হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলার এক কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবার উপকৃত হবে। তাঁর কথায়, এই প্রকল্প বা কর্মসূচি শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে। বর্তমানে এই প্রকল্পে আওতাভুক্ত রয়েছে ৪৪ কোটি মানুষ।

আর ৩৬ হাজারেরও বেশি হাসপাতাল এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বাংলার তৎকালীন তৃণমূলের সরকারকে আক্রমণ করেন।

শুভেন্দু বলেন, ন্যাশনাল হেলথ মিশনে গত ২ অর্থবর্ষে আগের সরকার কোনওভাবে কাজ করেনি। কেন্দ্রের কোনও পরামর্শ মানেনি। এমনকি আয়ুষ্মান মন্দির প্রসঙ্গে বলেন, এর সঙ্গে মন্দির নাম থাকায় তা তৎকালীন রাজ্য সরকার কার্যকর করেনি। ডবল ইঞ্জিন সরকারের প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ন্যাশনাল হেলথ মিশনে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে সাহায্য করার জন্য কেন্দ্রে এগিয়ে এসেছে। এর জন্য বাংলাকে ৫১৭ কোটি টাকা দিয়েছে কেন্দ্র সরকার ।

এভাবেই কাজ করে ডবল ইঞ্জিন সরকার। এইচভিপি টিকা চালু করার প্রস্তাব দিয়েছিল কেন্দ্র । কিন্তু বাংলায় এর আগের সরকার চালু করেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে বর্তমান সরকারের এসে তা চালু করেছে বলেও তিনি জানান। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলায় প্রচার করা হয়েছে যে আয়ুষ্মান ভারতে সুবিধা পাওয়া যায় না। তবে তিনি জানান, গোটা দেশে বহু হাসপাতালে ১ লক্ষ ৮২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে এই প্রকল্পের মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য। বাংলাতেও প্রায় দেড় কোটি পরিবার এই সুবিধা পাবেন বলে তিনি জানান।