পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে শনিবার স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, এই প্রকল্পের ফর্ম পূরণের জন্য সরকারের প্রতিনিধি প্রত্যেক উপভোক্তার বাড়িতে পৌঁছে যাবেন। তাই কাউকে চিন্তা করতে হবে না বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে আতঙ্কিত হওয়ারও কোনও কারণ নেই।
আরও পড়ুন:
শনিবার সকালে বিধাননগরের একটি হাসপাতালে জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধের টিকাকরণ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই তিনি অন্নপূর্ণা যোজনাকে ঘিরে মানুষের নানা প্রশ্নের জবাব দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী বুধবার থেকেই প্রথম পর্যায়ে উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক হিসাবে টাকা পাঠানো শুরু হবে।
পাশাপাশি যাঁরা আবেদন করবেন, তাঁদের বাড়িতে সরকারি কর্মীরা গিয়ে আবেদনপত্র পূরণে সাহায্য করবেন।আরও পড়ুন:
সম্প্রতি অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্র প্রকাশের পর তা নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়। অনেকের অভিযোগ ছিল, আবেদনপত্রটি বেশ বড় এবং সেখানে পরিবারের সদস্যদের পরিচয়, ব্যাঙ্কের তথ্য, জমিজমা-সহ একাধিক বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। কেউ কেউ দাবি করেন, এত তথ্য সংগ্রহের কারণে আবেদন করতে সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
আরও পড়ুন:
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, সরকারের লক্ষ্য হল প্রকৃত প্রাপকদের হাতে এই প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া।
সেই কারণে প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়া হচ্ছে। তবে আবেদনকারীদের কোনও রকম অসুবিধা যাতে না হয়, সে দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, যোগ্য মহিলারা প্রত্যেকেই এই প্রকল্পের অর্থ পাবেন। কেউ গুজবে কান দেবেন না।আরও পড়ুন:
নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতিপত্রে অন্নপূর্ণা যোজনার কথা ঘোষণা করেছিল বিজেপি। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজ্যের মহিলাদের প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে নতুন সরকার। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। তবে যাঁরা আয়কর দেন, সরকারি চাকরিতে রয়েছেন, নিয়মিত বেতন পান বা পেনশনভোগী তাঁরা এই প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকবেন। অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্র নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যের তরফে একাধিকবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এর আগে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও আবেদনকারীদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এ দিন মুখ্যমন্ত্রী নিজেও জানিয়ে দিলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতি মতো যোগ্য উপভোক্তাদের কাছেই এই প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে যাবে।